ভারতের মণিপুর রাজ্যের কামজং জেলায় মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন পিলং গ্রামের কাছে সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন নাগা নাগরিক। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে— ফামি জাজো, নিংথেম, বেটারসন জাজো এবং ভারেইশিম জাজো। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী 'কুকি ন্যাশনাল আর্মি (বার্মা)' বা কেএনএ (বি)।

সহিংসতা কেবল হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাংপোকপি জেলার মাকুই চাম্রিউপিউ, মাকুই থানাম্বা এবং মাকুই থেব্রাম নামক তিনটি গ্রামে সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীরা ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা ধরে এই তিনটি গ্রামে প্রায় একই সময়ে আক্রমণ চালানো হয়। এই হামলায় মাকুই চাম্রিউপিউতে ১৭টি, মাকুই থানাম্বায় ৮টি এবং মাকুই থেব্রামে ১৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ছাড়াও একটি চার্চ এবং বেশ কিছু সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রমাগত আক্রমণ এবং অগ্নিসংযোগের ফলে গ্রামবাসী তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে, ২৩ সেপ্টেম্বর তামেই সাব-ডিভিশনের লাসানে ওয়াকোটফাইয়ের বাসিন্দা পাওজাঙ্গাম চংলোইকেও হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে। নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এনপিএফ)-এর বিধায়ক অবাংবাউ নিউমাই এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর কুকি উগ্রপন্থীদের দ্বারা নিরীহ নাগরিকদের ওপর হামলা এবং সরকারি স্কুল ও চার্চসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সমাজে এ ধরনের সহিংসতাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং এর কোনো স্থান নেই। রাজ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া জাতিগত সংঘাত এবং উগ্রপন্থীদের এই কর্মকাণ্ডে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।