মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের এক প্রভাবশালী সেনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। কুইভীরা ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজ নামক একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য তিনি ৪.২ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বরাদ্দের (earmark) অনুরোধ করেছিলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, এই প্রকল্পের ফলে তার নিজস্ব মালিকানাধীন 'র‍্যাটেলসনেক র‍্যাঞ্চ'-এর ব্যাপক লাভ হবে, যা তিনি প্রকাশ করেননি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট হলো, কানসাসের গ্রামীণ এলাকায় কৃষকদের সেচ কাজ এবং পরিবেশবাদীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পানি অধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। কৃষি জমির সম্প্রসারণের ফলে অভয়ারণ্যে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় জলচর পাখিদের আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়েছিল। এই সংকট সমাধানে এবং কৃষক ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে মার্শাল এই বিশেষ বরাদ্দের উদ্যোগ নেন। ফেডারেল পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি পৃথক ওয়াটারশেড থেকে পানি পাম্প করে পাইপলাইনের মাধ্যমে র‍্যাটেলসনেক ক্রিকে পাঠানো হবে, যা মার্শালের সম্পত্তির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করবে।

এই পদক্ষেপটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ মার্শাল দীর্ঘকাল ধরে এই ধরণের 'পোর্ক-ব্যারেল স্পেন্ডিং' বা বিশেষ বরাদ্দের তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি একাধিকবার করদাতাদের অর্থের অপচয় হিসেবে এই পদ্ধতিকে ‘আমেরিকান ঐতিহ্যের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করে তা বাতিল করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অথচ নিজের এলাকায় এই সুবিধা নিতে তিনি নিজেই বরাদ্দের আবেদন করেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওয়াশবার্ন ইউনিভার্সিটির আইন অধ্যাপক এবং পানি অধিকার বিশেষজ্ঞ বার্ক গ্রিগস জানান, কুইভীরা অভয়ারণ্যে পানির সরবরাহ স্থিতিশীল হলে সেখানে জলচর পাখির সংখ্যা বাড়বে, যা শিকারিদের আকর্ষণ করবে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী জমির মূল্য বহুগুণ বেড়ে যাবে। যেহেতু মার্শালের র‍্যাটেলসনেক র‍্যাঞ্চ এই অভয়ারণ্যের সীমান্তে অবস্থিত, তাই তিনি পরোক্ষভাবে আর্থিক সুবিধা পাবেন। পাবলিক সিটিজেন নামক একটি ওয়াচডগ গ্রুপের লবিস্ট ক্রেগ হোলম্যানের মতে, একজন আইনপ্রণেতার উচিত নয় এমন কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া যা তার নিজের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা করে। তার মতে, মার্শালের এখানে নিজেকে এই প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত ছিল।

মার্শালের কার্যালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার মুখপাত্র পেটন ফুলার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানান, এই প্রকল্পের সমস্ত পানি অভয়ারণ্যেই যাবে এবং র‍্যাটেলসনেক র‍্যাঞ্চ এর থেকে কোনো সুবিধা পাবে না। বরং এই উদ্যোগ খামারগুলোকে রক্ষা করবে এবং খরাপ্রবণ বছরে অভয়ারণ্যের পানির অভাব মেটাবে।

উল্লেখ্য, মার্শাল এবং তার পরিবারের এই অঞ্চলের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একসময় তার এই অভয়ারণ্যের কাছে ১,০০০ একরের বেশি জমি ছিল, যা থেকে তিনি ভাড়া এবং তেল-গ্যাস লিজের মাধ্যমে আয় করতেন। বর্তমানে তার ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে র‍্যাটেলসনেক র‍্যাঞ্চে। আগামী নভেম্বরে তার পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সাথে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ তীব্র হয়ে উঠেছে। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই তার ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সরকারি তহবিলের এই যোগসূত্রটি সামনে এল।