নাইজেরিয়ার ওন্দো রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে তৈরি এক প্রকার মদ পান করে অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও প্রায় একশজন মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই মদে ক্ষতিকারক মিথানল মিশ্রিত ছিল। রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার বাঞ্জি আজাকা জানিয়েছেন, ওদিগবো ও ইরেলে এলাকা থেকে বিষক্রিয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে মোট ১৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন এক ভুক্তভোগী সোলা আদেবায়ো জানান, তিনি প্রায় দুই পেগ মদ পান করেছিলেন। শুক্রবার বাইরে গিয়েছিলেন, আর শনিবার বুঝতে পারেন যে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনটিডি জানিয়েছে, আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি মদের প্রচলন ব্যাপক। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে কম দামের এই পানীয়টির কদর বেশি।
স্বাস্থ্য কমিশনার আজাকা বলেন, পানীয়টির মারাত্মক প্রভাব খুব দ্রুত প্রকাশ পায়। মদ পানের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ভুক্তভোগীদের কিডনি বিকল হয়ে যায়, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয় এবং মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ওন্দো রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র আবায়োমি জিমো এক বিবৃতিতে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রয়েছেন, যিনি মিথানল মিশ্রিত পানীয় তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ‘মাঙ্কি টেইল’ নামে পরিচিত একটি জনপ্রিয় হারবাল পানীয়ের সঙ্গে মিথানল মেশানোর কারণেই এই মৃত্যুগুলো ঘটতে পারে। ওদিগবোতে ওই পানীয় বিক্রি করেন এমন এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাঙ্কি টেইল’র দুটি ধরন রয়েছে—একটি আসল ও নিরাপদ, অন্যটি অনিরাপদ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এদিকে, নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বর্তমানে ছোট প্যাকেট ও প্লাস্টিকের ছোট বোতলে অ্যালকোহল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে। সংস্থাটি বলেছে, এসব প্যাকেট ও ছোট বোতলের অ্যালকোহল সহজেই শিশু ও তরুণদের হাতে চলে যায়।




