আমেরিকার স্কুলগুলোতে শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পর লাখ লাখ শিশুর জন্য নির্ভরযোগ্য খাবারের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। টাইসন ফুডস এবং অলাভজনক সংস্থা GENYOUth-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে এই খাদ্যসংকটের প্রকৃত চিত্রটি সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুল চলাকালীন ২ কোটি ১০ লাখের বেশি শিশু বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দুপুরের খাবারের সুযোগ পেলেও, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে এই সংখ্যাটি নেমে আসে মাত্র ৩২ লাখে। অর্থাৎ, প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু তিন মাস ধরে চরম খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

জর্জিয়া এবং আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের স্কুলগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টাইসন ফুডস ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে। তবে চাহিদার তুলনায় এই অর্থ ছিল অত্যন্ত সামান্য। প্রায় ৬০টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এই সহায়তার জন্য আবেদন করেছিল এবং তাদের মোট চাহিদ ছিল প্রায় ৬ লাখ ডলার, যা বরাদ্দকৃত অর্থের চারগুণ। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, শিশুদের খাবারের অভাব কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকট। তথ্যমতে, স্কুল চলাকালীন প্রতি ১০০ জন ভর্তুকিপ্রাপ্ত শিশুর মধ্যে গ্রীষ্মকালে মাত্র ১৬ জন খাবার পায়।

এই সংকটের পেছনে বেশ কিছু বাস্তব বাধা রয়েছে। অনেক শিশুর জন্য খাবার বিতরণের কেন্দ্রটি তিন মাইল দূরে হলেও যাতায়াতের জন্য বাসের অভাব থাকায় তারা সেখানে পৌঁছাতে পারে না। আবার অনেক অভিভাবক দেরিতে কাজ করার কারণে দুপুরের মধ্যে খাবার সংগ্রহের সুযোগ পান না। এছাড়া অনেক পরিবার এই সহায়তা কর্মসূচির কথা জানতেই পারে না। তবে আশার কথা হলো, ২০২৪ সালে গ্রামীণ এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা এবং 'সামার ইবিটি' (Summer EBT) স্থায়ী হওয়ার ফলে অংশগ্রহণ ১২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আরও ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৫ জন শিশু খাবার পেয়েছে।

প্রতিবেদনে মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) অর্থায়ন ব্যবস্থার ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি রিইম্বার্সমেন্ট বা অর্থ ফেরত দেওয়ার পদ্ধতিটি কেবল পরিবেশিত খাবারের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়; কিন্তু স্থায়ী খরচ বা অপ্রত্যাশিত ব্যয়গুলো এর আওতায় পড়ে না। ফলে প্রতি দুপুরের খাবারের জন্য প্রায় ৫০ সেন্ট এবং প্রাতরাশের জন্য ১ ডলার স্কুলগুলোকে নিজস্ব তহবিল থেকে জোগাড় করতে হয়। এতে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়—যেসব এলাকায় অভাব বেশি এবং শিশুদের সংখ্যা বেশি, সেখানকার স্কুলগুলোর পক্ষে তহবিল সংগ্রহ করা সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়ে।Consequently, অনেক স্কুল বাধ্য হয়ে কম শিশুকে খাবার দেয়।

টাইসন ফুডস এবং জেনইউথ-এর এই অনুদান মূলত শ্রমিক মজুরি, রেফ্রিজারেশন, জ্বালানি এবং পরিবেশন লাইনের মতো পরিচালনাগত ব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আরকানসাসের লেক হ্যামিল্টন স্কুলসে এই অর্থ দিয়ে স্থানীয় কৃষিপণ্য কেনা সম্ভব হয়েছে এবং কর্মীদের জন্য ফ্যান ও কুলিং টাওয়ালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, জর্জিয়ার চেরোকি কাউন্টিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মোবাইল ডাইনিং বাস চালু করা হয়েছে যাতে যাতায়াত সমস্যা দূর হয়। কিছু স্কুল则 খাবারের পাশাপাশি পাঠপ্রোগ্রাম ও কারুশিল্পের আয়োজন করায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

টাইসন ফুডসের কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট ও রিলেশনস প্রধান টিম গ্রেলার এই পরিস্থিতির সমাধানে তিনটি স্তরে আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমত, খাদ্য শিল্পের কোম্পানিগুলোকে প্রকৃত চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্কুল প্রধানদের তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। তৃতীয়ত, নীতি-নির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে যেন রিইম্বার্সমেন্টের হার প্রকৃত খরচের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়, যাতে সরকারি সহায়তার ঘাটতি দূর হয় এবং দাতব্য অর্থ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।