মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকদের কোটি টাকার আমানত নিয়ে ব্যাপক গরমিলের অভিযোগ সামনে এসেছে। গ্রাহকদের দাবি, তাদের হাতে জমার বৈধ রসিদ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের দাপ্তরিক নথিতে ওই টাকার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। এই অনিয়মের পেছনে মূল অভিযুক্ত হিসেবে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক শরিফুজ্জামান সোহাগের নাম উঠে এসেছে। শাখা ব্যবস্থাপক মো. শরীফ উদদীন জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে শরিফুজ্জামান কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং তার সাথে মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি একজন গ্রাহক তার হিসাব যাচাই করতে গিয়ে গরমিল খুঁজে পাওয়ার পর। এরপর আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহক একই ধরণের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকে ভিড় করেন। অভিযোগকারী গ্রাহকদের মতে, শরিফুজ্জামান ১১ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এফডিআরের নামে টাকা সংগ্রহ করতেন। টাকা জমা নেওয়ার পর তিনি কাগজে রসিদ প্রদান করলেও সেগুলো ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেম বা রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হতো না। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি হিসাবে এমন গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে বালিগাঁওয়ের জাকিয়া সুলতানা ও বেজগাঁওয়ের জুথি আক্তার জানান, তারা প্রত্যেকে সাত লাখ টাকা করে জমা দিয়েছিলেন, যা বর্তমানে হিসাবে নেই। এছাড়া আড়িয়ল পাড়ার নাছির হাওলাদারের ১৫ লাখ টাকা, রোজিনা বেগমের ২৭ লাখ টাকা, শিখা আক্তারের ১০ লাখ টাকা এবং মনিকা বেগমের নয় লাখ ৫০ হাজার টাকার গরমিল হয়েছে। একইসাথে তুহিন আক্তার (আট লাখ), স্মৃতি আক্তার (ছয় লাখ) এবং পারভীন আক্তার (চার লাখ ১০ হাজার টাকা) আমানত হারানোর অভিযোগ করেছেন।
সবচেয়ে বড় অংকের গরমিল পাওয়া গেছে নুরুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষকের আইভরি কোস্টপ্রবাসী শ্যালক মো. বাহাদুরের হিসাবে। নুরুল ইসলাম জানান, ওই হিসাবে ৮৫ লাখ টাকা ছিল এবং কোনো চেক বই নেওয়া হয়নি। তবে হিসাব যাচাই করে দেখা যায় সেখানে কোনো টাকা নেই। তার অভিযোগ, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে কৌশলে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শরিফুজ্জামান নিজের নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রাহকদের রসিদ ও ব্যাংকের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান এবং জোনাল হেড আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধান কার্যালয়ের অডিট টিম বিষয়টি তদন্ত করবে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত পরিমাণ এবং জড়িতদের বিষয়ে জানা যাবে। তবে গ্রাহকদের আমানত ফেরতের বিষয়ে তারা আশ্বস্ত করেছেন। অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।




