নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় মেঘনা নদীতে ঝোড়ো বাতাসের মুখে ট্রলার ডুবে যাওয়ার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় রায়েসা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের কাইল্লাপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তবে এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের পরিচয় পাওয়া গেছে— হেলাল উদ্দিন (৫৫), সজীব (২৪), সামিয়া (১৭) এবং সামিন (৫)।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বৈদ্যেরবাজারের সোনাময়ী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা থেকে ১৩ জন যাত্রী নিয়ে সোনারগাঁয়ে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন তারা। পথে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে লোহার তৈরি ট্রলারটি নদীতে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ওই পরিবারের চারজন এবং ব্যবহৃত লোহার ট্রলারটি এখনো নিখোঁজ।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশ। তবে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। নদীর প্রশস্ততা এবং প্রচণ্ড স্রোতের কারণে তল্লাশি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ওসমান গণি জানান, নদীর মাঝপথে দুর্ঘটনাটি ঘটার কারণে এবং কিছু স্থানে গভীরতা ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত হওয়ায় নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তীব্র স্রোতের কারণে ডুবুরিদের কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। বর্তমানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটি খুঁজে পেতে লেজার ক্যামেরা ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। নদীর তীরে নিখোঁজদের স্বজনরা গভীর উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষারত রয়েছেন।