হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় রাস্তা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ এই আদেশ প্রদান করেন। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন এবং কনস্টেবল রুহুল আমিন। তাঁদের বর্তমানে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় থেকে ছায়েদ মিয়া (৫০), তাঁর কন্যা জাসমিন আক্তার (২৪) এবং ছোট ভাই ইউনুস মিয়াকে (৪৫) আটক করে এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বাধীন একটি পুলিশ দল। পুলিশ দাবি করেছিল যে তাঁদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের তিক্ততা ও আইনি লড়াই চলছে।

আটক হওয়া তিন সদস্যের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার একটি মামলায় হাজিরা দিতে তাঁরা ইজিবাইকে করে চুনারুঘাট যাচ্ছিলেন। বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পুলিশ তাঁদের গতি রোধ করে এবং তল্লাশির অছিলায় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দেখানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তাঁদের পুলিশ গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কালীশিরীসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের অনেক মানুষ চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের শাস্তির দাবি তোলেন। গণবিক্ষোভ ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে আটক তিনজনকে মুক্তি দেয় পুলিশ।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের পর দেখা গেছে যে আটক তিনজনের ইয়াবা ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই। তাই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এসআই ও কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মিছবাহুল বারী এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, কেবল প্রত্যাহার করা যথেষ্ট নয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় এ ধরনের অন্যায়ের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।