রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ডেঙ্গু এবং হামের প্রকোপে অসংখ্য শিশু চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের করুণ পরিস্থিতি এমন যে, প্রয়োজনীয় বেড না মেলায় অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতেই শুইয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সেখানে ভর্তি পাঁচ বছর বয়সী নাফিয়া নামের এক শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নাফিয়ার বাবা নূর আলম জানিয়েছেন, তার সন্তান একই সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গু—এই দুটি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র ধরা পড়েছে। গত শনিবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাফিয়ার মা মাহমুদা আক্তার জানান, চিকিৎসকেরা সকালে দেখার পর জানিয়েছেন তার শারীরিক অবস্থা বা 'পজিশন' বেশ খারাপ। বর্তমানে তাকে ক্যানুলা পরিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে না ওঠায় বাবা-মায়ের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

নাফিয়ার মতো আরও অনেক শিশুর করুণ চিত্র দেখা গেছে ওই ওয়ার্ডে। কেউ বিছানায় জায়গা পেলেও অনেকের ঠাঁই হয়েছে ঠান্ডা মেঝেতে। স্বজনদের ছোটাছুটি এবং উৎকণ্ঠার মাঝে হাসপাতালের পরিবেশ এখন শিশুদের অসুস্থতায় ভারি। ৯ বছর বয়সী শারিনা নামের এক শিশু এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিল। তার বাবা আশিকুর রহমান জানান, ভর্তির পর শারিনার প্লাটিলেট সংখ্যা ৩৪ হাজারে নেমে আসায় চিকিৎসকেরা ডোনার প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন, যা তাকে ভীষণ আতঙ্কিত করে তোলে। রোববার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও রক্তচাপের ওঠানামার কারণে তিনি এখনও দুশ্চিন্তায় আছেন।

একই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের এক কোণে তোশক পেতে শুইয়ে রাখা হয়েছে ১১ বছর বয়সী আয়েশাকে। তিন দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত এই শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আয়েশার বাবা মো. সজীব হতাশার সাথে জানান, চিকিৎসকেরা পরীক্ষার সব রিপোর্ট ভালো বলে জানালেও তার মেয়েটি কেন সুস্থ হয়ে উঠছে না, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। সামগ্রিকভাবে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ডেঙ্গু ও হামের চাপে চরম ভিড় এবং সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে সীমিত সম্পদের মাঝে শিশুদের জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন চিকিৎসকেরা এবং উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাদের অভিভাবকেরা।