বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি)। সম্প্রতি পরিচালিত একটি নিরাপত্তা নিরীক্ষায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় শাহজালাল বিমানবন্দরের স্কোর ১ শতাংশ এবং ওসমানী বিমানবন্দরের স্কোর ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্যের কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যগামী পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অডিট চালানো হয়। এতে মূলত এভিয়েশন সিকিউরিটির বিভিন্ন দিক, যেমন—যাত্রী ব্যবস্থাপনা, কার্গো এবং মেইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি ধারাবাহিক উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে কার্গো সংক্রান্ত অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ‘অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট’ অংশে শতভাগ প্রতিপালন বা কমপ্লায়েন্স অর্জিত হয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

বেবিচকের মতে, ডিএফটি-র এই সফল ফলাফল আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইকাও-এর আসন্ন ‘ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম–কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ’ (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিটের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই আন্তর্জাতিক অডিটে বেবিচক সদর দপ্তরসহ শাহজালাল ও ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং এর বাস্তবায়ন কাঠামোর মূল্যায়ন করা হবে।

এই সাফল্যের বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর আসিফ ইকবাল জানান, এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগ, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের সঠিক দিকনির্দেশনা এই অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।

অন্যদিকে, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) ব্যবস্থার আওতায় বিশেষ নিরাপত্তা শর্তের সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপের দিকে পাঠানো কার্গো ও মেইলের ক্ষেত্রে বাড়তি সময় এবং অতিরিক্ত খরচ ব্যয় করতে হয়। বেবিচক ইতিপূর্বেই এইচআরসিএম বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছে। যদিও এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, তবে ডিএফটি অডিটের এই ইতিবাচক ফলাফল এবং কার্গো নিরাপত্তায় উচ্চমাত্রার কমপ্লায়েন্স বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির প্রমাণ হিসেবে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে বেবিচক।