যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর বিল লি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইককে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দুটি চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নর লি জানান, আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা রাজ্যের অন্যতম গুরুতর দায়িত্ব। এই ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখতে তিনি একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বুধবার টেনেসি কারাগারের কর্মকর্তারা পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি বেঁচে যান এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ১৯৯৬ সালে কলিন স্লেমার নামের এক কিশোরীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি এবং তার তৎকালীন প্রেমিক তাদারিল শিপ মিলে ১৯ বছর বয়সী স্লেমারকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেন। যদি এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো, তবে গত ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম নারী হতেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় গভর্নর লি তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত রাতে যা ঘটেছে তা নিয়ে তিনি এবং টেনেসির জনগণ অত্যন্ত হতাশ। তবে এই স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়াটি কারা পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে তিনি এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। তার এই স্থগিতাদেশের ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার কথা ছিল এমন আসামি গ্যারি সাটনের কার্যকরিকরণ প্রক্রিয়াও স্থগিত হয়ে গেল।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে পাইকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এই ব্যর্থ চেষ্টার পর তার জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অফ কারেকশন একটি বিবৃতিতে তাদের প্রক্রিয়ার পক্ষে কথা বলেছে। তারা দাবি করেছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দ্বারা অনুমোদিত রাজ্যের নির্ধারিত সকল আইনি প্রোটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল। তাদের মতে, ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলো বরাবরই কার্যকর এবং নির্ধারিত প্রোটোকলের বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
২০২৬ সালে এটি টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি কারুদার্স নামের এক আসামির শিরার খোঁজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে তাকে এক বছরের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। পাইকের আইনজীবীরা এখন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থন করছেন এবং দাবি করছেন যে, এই অপরাধটি বর্তমানে ঘটলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না।




