ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা চ্যালেঞ্জের এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি সরাসরি এবং খোলামেলা বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো বিদেশের ভারতবিরোধী শক্তির মদদে পরিচালিত হচ্ছে এবং গোপনে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। মোদি স্পষ্ট করে বলেন, কারা বিদেশে গিয়ে গোপন বৈঠক করছে তা এখন সবার সামনে পরিষ্কার।

এই অভিযোগের বিপরীতেই প্রধানমন্ত্রীকে মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান রাহুল গান্ধী। হাতে লাল গোলাপ নিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ জানানোর ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও মোদিজি কোনো সাড়া দেননি। রাহুলের দাবি, মোদিজিই আসলে বিদেশি সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং ক্ষমতায় টিকে আছেন। তিনি বলেন, কে প্রকৃত দেশদ্রোহী এবং কার বিদেশি সংযোগ রয়েছে, তা সরাসরি বিতর্কের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। রাহুল প্রস্তাব দেন যে, মিডিয়ার উপস্থিতিতে এবং যেকোনো নিরপেক্ষ বিচারকের সামনে—এমনকি মোহন ভাগবতকেও বিচারক করা যেতে পারে—তিনি বিতর্কের জন্য প্রস্তুত।

রাহুল গান্ধী এই বিতর্কের সম্ভাব্য বিষয়বস্তু হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্যচুক্তির নেপথ্য কারণ, মন্ত্রিসভাকে অন্ধকারে রাখা, আদানির মামলা এবং এপস্টিন প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫টি মানহানির মামলা করা হলেও বিদেশি সংযোগের বিষয়ে কোনো মামলা করা হয়নি, যা রহস্যজনক।

তবে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে এই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে এগিয়ে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হরিয়ানার এক জনসভা থেকে তিনি রাহুলকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে বরং সংসদের ভেতরে এসে বিতর্ক করুন। শাহ জানান, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে হলে তাঁরা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে বিজেপিকে জেতানো হচ্ছে। এর জবাবে অমিত শাহ যুক্তি দেন যে, ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কিংবা হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে এসআইআর ছিল না, তবুও কংগ্রেস হেরেছে। তাই এসআইআরের ওপর দোষ চাপানো বন্ধ করার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে শাহ হুঁশিয়ারি দেন যে, রাস্তাঘাটে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে বিজেপির কর্মীরা তার যথাযথ জবাব দেবেন। এর আগে বিরোধীরা মোদি ও শাহর বিরুদ্ধে সংসদ এড়িয়ে চলা এবং অধিবেশন চলাকালীন বিদেশ সফরের অভিযোগ তুলে আসছিলেন।