যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে প্রার্থীর নির্বাচনী তহবিলের পরিমাণ জয়ের গ্যারান্টি হতে পারেনি। নর্থ ক্যারোলাইনার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের লড়াইটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এখানে রিপাবলিকান প্রার্থী এবং প্রাক্তন স্টেট হাউস স্পিকার টিম মুরের কাছে ছিল প্রায় ৩০ লাখ ডলারের বিশাল তহবিল। বিপরীতে, ডেমোক্র্যাট দলের নতুন মুখ লাকেশা ওম্যাকের সংগ্রহ করা অর্থ ছিল মাত্র ৫৯ হাজার ডলার। তহবিলের হিসেবে মুর ওম্যাকের চেয়ে ৫০ গুণেরও বেশি এগিয়ে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬,৪০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ওম্যাক।
টিম মুরের এই পরাজয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তিনি দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় নর্থ ক্যারোলাইনা হাউসে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২৩ সালে এই নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৪ সালে এই এলাকা থেকেই ১৬ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার সেই দাপট ম্লান হয়ে যায়। বিজয়ী লাকেশা ওম্যাক জানান, তিনি সীমিত অর্থ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ থেকে সাতটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন এবং অধিকাংশ টাকা খরচ হয়েছে যাতায়াতের জ্বালানি হিসেবে। তার মতে, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর এবং সেবামূলক নেতৃত্বই তাকে এই জয়ের পথে এগিয়ে নিয়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনার এই লড়াই ছিল একটি বৃহত্তর জাতীয় প্রবণতার অংশ। দেশজুড়ে দেখা গেছে, রিপাবলিকান প্রার্থীরা অনেক বেশি অর্থ খরচ করলেও ডেমোক্র্যাটরা জয়লাভ করছেন। টেনেসিতে ভিক্টোরিয়া ব্রডরিক তার প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান স্কট ডেজারলাইসের তুলনায় অনেক কম অর্থ সংগ্রহ করেও এগিয়ে আছেন। আলাবামাতে এলিসন মন্টগোমারি এবং নেল ব্রাউন উভয়েই তাদের রিপাবলিকান প্রতিপক্ষের তুলনায় সামান্য অর্থ খরচ করে জয়ী হয়েছেন। এমনকি জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে বিলিয়নেয়ার রিপাবলিকান রিক জ্যাকসন নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেও ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমসের কাছে পরাজিত হন।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী এলন মাস্কের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয়ের লক্ষ্যে তিনি প্রায় ৪৪৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও, তার সমর্থিত ৩৭ জন হাউস প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন জয়লাভ করেছেন এবং ৩৩ জন হেরে গেছেন। এছাড়া তার সমর্থিত ৭ জন সিনেট প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই পরাজিত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অভিবাসন সমস্যা নিয়ে ভোটারদের চরম অসন্তুষ্টি এই ফলাফলের পেছনে প্রধান কারণ। এনবিসি নিউজের এক এক্সিট পোলে দেখা গেছে, তিন-চতুর্থাংশ ভোটার বর্তমান অর্থনীতিকে 'খারাপ' বা 'খুব একটা ভালো নয়' বলে অভিহিত করেছেন। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মাইক মারিনেলির মতে, এই পরাজয় মূলত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি গণরায়।
২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন, যেখানে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার জয়ের পর লাকেশা ওম্যাকের মন্তব্য, কমিউনিটির সাথে সরাসরি উপস্থিত থাকা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মূল্য কোনো আর্থিক অনুদানের চেয়ে অনেক বেশি।




