ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) এবং ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই বিতর্কের স্থান, সময় এবং এমনকি বিচারক নির্বাচনের দায়িত্বও তিনি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী প্রস্তাব করেছেন যে, প্রয়োজন হলে মোহন ভাগবতকেও বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে, যেখানে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে দেশপ্রেম ও দেশদ্রোহিতার প্রকৃত ফয়সালা হবে।
রাহুলের এই চ্যালেঞ্জের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হরিয়ানার এক জনসভায় জানান, সরকার এসআইআর নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত এবং তিনি রাহুলকে সংসদের ভেতরেই বিতর্কে অংশ নিতে আহ্বান জানান। তবে অমিত শাহর এই পাল্টা চ্যালেঞ্জকে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন রাহুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ একটি পোস্টে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী দুটি বক্তব্যের ক্লিপিং শেয়ার করে সরকারের 'দ্বিচারিতার' প্রমাণ দাখিল করেছেন। রাহুল সেখানে কটাক্ষ করে লিখেছেন, 'তাঁদের আমি পাগল করে দেব' এবং মোদিজিকে বিভ্রান্ত না করে কেবল তাঁর সঙ্গে খোলাখুলি বিতর্কে বসতে রাজি করানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী যে পরস্পরবিরোধী তথ্যের কথা বলেছেন, তা হলো ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বরের দুটি ভিন্ন বক্তব্য। প্রথম ক্লিপিংয়ে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সংসদে এসআইআর নিয়ে আলোচনার দাবিতে যখন উত্তাল পরিবেশ, তখন অমিত শাহ বলেছিলেন যে এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা সম্ভব নয়, কারণ নির্বাচন কমিশনাররা সরকারের অধীনস্থ নন বলে তাঁরা সভায় উপস্থিত থেকে জবাব দিতে পারবেন না। অথচ এক বছরের ব্যবধানে, গত ৫ নভেম্বর হরিয়ানার জনসভায় তিনি হঠাৎ করেই এই বিষয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার কথা বলে রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানান। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণেই রাহুল দাবি করেছেন যে, সরকারি পক্ষ বিভ্রান্তির মুখে পড়েছে।
বিতর্কটি আরও বিস্তারিত করতে রাহুল গান্ধী কিছু গুরুতর প্রশ্নের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপনে বাণিজ্যচুক্তি করা হলো এবং শিল্পপতি আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া মামলা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো—এই সবকিছুর উত্তর খোলাখুলি বিতর্কের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।
এদিকে, রাহুলের এই আক্রমণের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। তিনি রাহুলের সমালোচনা করে বলেন, রাহুল গান্ধী নিজেই বিভ্রান্ত এবং পরাজয়ের পর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাঁর পুরনো অভ্যাস। তিনি রাহুলের এই কর্মকাণ্ডকে 'নাটক' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে বিজেপি নেতাদের এই আত্মরক্ষা সত্ত্বেও, এক বছরের ব্যবধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তির পরিবর্তন রাহুলের সামনে সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।




