যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার বিদ্যমান সংঘাত নিরসনে 'উপযুক্ত সময়ের' জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার অনুরোধ জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আল থানি গুরুত্বারোপ করে জানান যে, শতভাগ নিখুঁত বা উপযুক্ত কোনো শান্তিচুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, তবে সেই আদর্শ মুহূর্তের আশায় বসে থাকা চলবে না, বরং এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কাতার যখন এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করল, ঠিক সেই সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সাথে তাদের আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় তেহরানের প্রতি ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল হয়েছে।

তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শীঘ্রই নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভব হলে তিনি ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী তা করতে তিনি বাধ্য হতে পারেন। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিষয়টি কি এমনভাবে চূড়ান্ত করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে?

হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করে ট্রাম্প জানান, যদি বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়, তবে দেশটি পুনর্গঠনে অন্তত ২৫ বছর সময় লেগে যাবে। এদিকে ফক্স নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সাথে হোয়াইট হাউজে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ৯ নভেম্বর পশ্চিম এশিয়ায় অমাবস্যা থাকবে। চাঁদের আলোর অনুপস্থিতির কারণে এই সময়টি সামরিক অভিযানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত অনুকূল, যা মার্কিন প্রশাসনের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।