পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মী ও সমর্থকরা এই কাজ করেছেন বলে দাবি করেন অভিষেক। শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গত ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই নিয়ে মোট সাতবার হামলা চালানো হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও ফুটেজ এবং বার্তা প্রকাশ করে তিনি দেখান যে, হামলার আগে বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁর বাড়ি ও কার্যালয়ের আশেপাশে নজরদারি চালানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, যখন এই হামলা চালানো হচ্ছিল, তখন কলকাতা পুলিশ সম্পূর্ণ নীরব ছিল। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি নিজের রাজ্যে নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থার নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে অভিষেক দাবি করেছিলেন, কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাঁর বাড়ি ও অফিসের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করছিল। এই রহস্যময় নজরদারির পেছনে কার নির্দেশ ছিল তা খতিয়ে দেখতে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের কাছে দ্রুত তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন।
তবে তৃণমূল নেতার এই গুরুতর অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই ঘটনার কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে কোনো কার্যকর ইস্যু খুঁজে না পেয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে অভিষেক এই গল্প তৈরি করেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিষেকের প্রাণহানির প্রয়োজন কার হতে পারে? এছাড়া তৃণমূল নেতাদের জন্মদিন উদযাপনের সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, অহেতুক অশান্তি সৃষ্টি করলে তার প্রতিক্রিয়া আসা স্বাভাবিক। বিজেপির স্পষ্ট দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও ব্যর্থতা ঢাকতেই তৃণমূল এই ধরনের নাটক সাজাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বনাম রাজনৈতিক নাটকের এই পাল্টা লড়াই এখন রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে।




