রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে চালানো ভয়াবহ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। শনিবার দুপুরে এই গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে— তারা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) এবং মো. রাব্বি (২০)।

পুলিশি তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে তিনজনই শাহ আলী মাজারের ভাসমান ব্যক্তি। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা এই হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশ পরিহিত প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে কর্মরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে জিম্মি করে পুরো কেন্দ্রটি নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর সেখান থেকে নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টিকা এবং মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করে নেওয়া হয়। লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে একটি পাকা এবং তিনটি আধা-পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা কেন্দ্রটি ধ্বংস করার পর সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে চলে যায়।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিরপুরের নিম্ন আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছিল। এখানে মূলত প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং শিশুদের টিকাদান ও সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। এই কেন্দ্রটি ধ্বংস হওয়ার ফলে বর্তমানে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে চালানো হচ্ছে, যার ফলে শিশু ও মায়েরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে তারা এখনও মামলার এজাহারের কপি হাতে পাননি। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সরকার এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না।