রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা 'রাড্ডা এমসিএইচ'-এর কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে ধ্বংস করার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে একাধিক অভিযান চালিয়ে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালানো হয়। তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হলেও হামলাকারীদের চেহারা খুব একটা স্পষ্ট ছিল না। তবে তদন্তের পর সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার ভিত্তিতে চারজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, তারা অর্থের বিনিময়ে এই ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের দ্রুত আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে, যখন ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ওই এনজিওর একটি পাকা এবং তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা শুধু স্থাপনাটিই গুঁড়িয়ে দেয়নি, বরং চলে যাওয়ার আগে ওই জমির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে যায়। রাড্ডা এমসিএইচ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হামলার সময় তাদের অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং টিকাদানের বিপুল পরিমাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্ণনা অনুযায়ী, মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। তারা মূলত দরিদ্র ও অসহায় মা এবং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক জানিয়েছেন, মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো অরাজক ঘটনা সরকার কাম্য মনে করে না।




