ঢাকার গুলশানে অবস্থিত বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টারের (বিএসিসি) মালিক এবং দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে একটি অন্তঃসত্ত্বা পার্সিয়ান জাতের বিড়ালের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিড়ালটির পালক আবিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান এই লিগ্যাল নোটিস রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠিয়েছেন।

নোটিসে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক লাবণ্য এবং চিকিৎসক সোলাইমান হোসাইন ও জুবায়ের। নোটিস প্রেরক দাবি করেছেন, সাত দিনের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় ওই তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের মে মাস থেকে বিড়ালটি বিএসিসিতে চিকিৎসা গ্রহণ করে আসছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিড়ালটি গর্ভবতী কি না তা জানতে আবিবুর রহমান ওই সেন্টারে যান। চিকিৎসক সোলাইমান হোসাইন পরীক্ষা করে জানান যে বিড়ালটি সন্তানসম্ভবা এবং গর্ভে দুই বা ততোধিক ছানা রয়েছে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসক কিছু ওষুধ লিখে দেন।

পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে বিড়ালটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তার দ্রুত শ্বাস নেওয়া, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, চোখ ভেজা এবং খাবার ও নড়াচড়ার প্রতি অনীহা দেখা দেয়। দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অবগত করা হলেও শুরুতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ওইদিন সন্ধ্যায় অসুস্থতার ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জরুরি চিকিৎসার অনুরোধ করা হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক জুবায়ের ভিডিও কলে বিড়ালটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই চিকিৎসক পরিস্থিতিটি গুরুতর মনে করেননি এবং পরামর্শ দেন যে বিড়ালটি বাচ্চা দেবে, তাই পাশে কাপড় রেখে রুম অন্ধকার করে দিতে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে বিড়ালটির অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। এরপর চিকিৎসক জুবায়েরের সাথে কথা বলে রাত সাড়ে ১১টায় তাকে বিএসিসিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রিসেপশন কক্ষে ডা. শিরোপা অক্সিজেন প্রদান করলে বিড়ালটির শ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি হয় এবং একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর প্রাণীটি উঠে দাঁড়ায়। তবে সুস্থ বোধ করার কয়েক মিনিট পরেই ডা. জুবায়ের অক্সিজেন সরিয়ে বিড়ালটিকে ভেতরে নিয়ে যান। এর ৪-৫ মিনিট পর ডা. শিরোপা দৌড়ে এসে জানান যে বিড়ালটি মারা যাচ্ছে এবং পালকের সামনেই বিড়ালটির মৃত্যু হয়।

আইনি নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, ইনজেকশন দেওয়ার পর অন্তত আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে না রেখে ডা. জুবায়ের দ্রুত চিকিৎসা শুরু করায় বিড়ালটির মৃত্যু হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পালক আবিবুর রহমান প্রতিষ্ঠানের মালিক লাবণ্যর সাথে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত জানান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। নোটিসে বলা হয়েছে, লাবণ্য ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করলেও সংশ্লিষ্ট দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে রাজি হননি।