ঢাকার মিরপুরে বেসরকারি সংস্থা 'রাড্ডা এমসিএইচ'-এর কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্বের অংশ। তাই ওই রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ওই এনজিওর একটি পাকা এবং তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ সম্পূর্ণ স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে ওই জমিতে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। সংস্থাটির অভিযোগ, এই হামলার সময় অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুট করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী থানায় খবর থাকা সত্ত্বেও কেন তা ঠেকানো গেল না, এই প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে। পুলিশ সময়মতো সেখানে পৌঁছেছিল কি না এবং তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য দারুসসালাম জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের শনিবারই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, রিপোর্টে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে ডিএমপি কমিশনার মনে করেন, পুরো স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় সম্ভব নয়; বরং এটি যথেষ্ট সময় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত চালিয়ে শুক্রবার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মামলার মূল আসামির গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অপরাধী যেই হোক বা যে দলেরই হোক, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো ধরনের বেআইনি দখলদারিত্ব তিনি কঠোরভাবে দমন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।