মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক সমীকরণ দেখা দিয়েছে। হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিজ সম্প্রতি নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও বহিরাগত উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। রবিবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার পথ খুঁজছে হোয়াইট হাউস।

বৈঠকে আবাসন, অভিবাসন এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, যার জন্য ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের দায়ী করছেন। জানা গেছে, নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় ফিরলে স্পিকার পদে বসতে পারেন জেফ্রিজ। এ অবস্থায় হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের সঙ্গে বৈঠকের পরামর্শ দিয়েছেন কুশনার।

ঘটনার পর রবিবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিজ এই ব্যক্তিগত কথোপকথনের কথা উল্লেখ না করলেও রিপাবলিকান প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার পথই একমাত্র পথ’ — এই মনোভাব পরিত্যাগ করা উচিত, কারণ এই নীতি মার্কিন জনগণের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। নিউইয়র্কের এই কংগ্রেসম্যান আরও বলেছেন, উগ্রবাদী পদ্ধতি কখনো কাজ করবে না এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা করা হবে। রিপাবলিকানরা তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন।

এই বৈঠক রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ উদ্বেগকে প্রকট করেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, বিশেষ করে হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো নিয়ে দলের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা কাজ করছে। হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্টের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিরোধী দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চাইছে। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা দখল করলে প্রশাসনের ‘দুর্নীতিবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর তদারকি শুরু হতে পারে, এমনকি অভিশংসনের হুমকিও রয়েছে। জেফ্রিজ আগেই প্রশাসনের সদস্যদের ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং হাউস স্পিকার মাইক জনসন এই বৈঠক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি কুশনারের ভূমিকাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, বলেছেন যে কুশনার সব সময় ঝুঁকি এড়িয়ে চলেন এবং হোয়াইট হাউসের দৈনন্দিন কাজে সরাসরি জড়িত নন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, হাউস রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে বাজি না ধরাই ভালো। কুশনার বা হোয়াইট হাউসের কেউই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, জেফ্রিজ এবং কুশনার নতুন মুখ নন। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ড্রাগ অপরাধের সাজা কমানোর ঐতিহাসিক আইন প্রণয়নে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। ট্রাম্পের কটূক্তি সত্ত্বেও তাদের মধ্যে সম্পর্ক বজায় ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে কুশনার আনুষ্ঠানিক কোনো পদে না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি কূটনৈতিক মিশনে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে এখন পর্যন্ত জেফ্রিজের সঙ্গে মাত্র একবার দেখা করেছেন। সেই বৈঠকে ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের টিজ করতে ওভাল অফিসে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন ২০২৮’ লেখা ক্যাপ রাখা হয়েছিল, যা ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয়। এরপর এক বৈঠকে ট্রাম্প জেফ্রিজ ও শুমারের ছবি এডিট করে কটূক্তি করেন, যা বর্ণবাদী হিসেবে সমালোচিত হয়।

এখন পর্যন্ত ট্রাম্প কংগ্রেসকে এড়িয়ে নির্বাহী আদেশের ওপর নির্ভর করে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলে এই চিত্র বদলে যেতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর ভরসা করছে রিপাবলিকান পার্টি। ২০১৮ সালের মতো ডেমোক্র্যাটিক ঢেউ আবার উঠবে কি না, সেদিকে তাকিয়ে সবাই। সিনেটেও টক্কর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক শিবিরে প্রাতিষ্ঠানিক প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বহিরাগত ও সমাজতান্ত্রিক ধারার প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়াও ভোটারদের অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।