যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি উত্তর ক্যারোলিনার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে মিডটার্ম নির্বাচনে বিজয়ের ভিত্তিতে ভোটারদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা জিতি, তবে আপনারা ৫ হাজার ডলার পাবেন। এটাই সব। খুব সহজ।” তবে ওই জনসভায় ভাষণ দেওয়া রিপাবলিকান প্রার্থীরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তাদের এই নীরবতা দলটির বিস্তৃত মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
ডালাসে দলটির অস্বাভাবিক মিডটার্ন কনভেনশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামের এই প্রতিশ্রুতি ঘোষণার পর প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক আসনের প্রার্থীদের প্রচারণায় এটির কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা যায়নি। ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন বা দলের প্রার্থীদের বিজ্ঞাপনেও এই প্রতিশ্রুতি স্থান পায়নি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেই কেবল প্রসঙ্গটি উঠে আসে, আর তখন বেশিরভাগ রিপাবলিকান প্রার্থী এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি অবশ্য এই প্রস্তাবকে ট্রাম্পের সামগ্রিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে দেখছে। কমিটির মুখপাত্র ন্যাটালি বালদাসারে জানান, “আমরা অবশ্যই সব রিপাবলিকান প্রার্থীকে তার এজেন্ডা অনুসরণ করতে উৎসাহিত করি, যার মধ্যে আমেরিকানদের পকেটে আরও টাকা দেওয়ার প্রচেষ্টাও রয়েছে।” তবে সবাই যে এই অবস্থানে নেই, তা স্পষ্ট। কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। উইসকনসিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি আসনে পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ডেরিক ভ্যান অর্ডেন, তিনি এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেছেন।
অর্থনীতি যখন ক্রমবর্ধমান সুদের হার, টানা মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির মুখোমুখি, তখন এই প্রতিশ্রুতি এসেছে। রিপাবলিকানরা হাউস ও সেনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, সরকারের দক্ষতা বিভাগ থেকে সাশ্রয় এবং আমদানি শুল্ক থেকে রাজস্ব দিয়ে তিনি ২ হাজার ডলার বা তার বেশি অর্থ বিতরণ করবেন, কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই পরিকল্পনার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না। তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হতে পারে, আর হাউস স্পিকার মাইক জনসন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আইনপ্রণেতাদের এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা তুলে এই ৫ হাজার ডলারের পরিকল্পনার প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করছে। হাউস ডেমোক্র্যাটিক প্রচারণা শাখার মুখপাত্র ভিয়েত শেলটন বলেছেন, “এই ধারণাটি একটি পুরোনো ভাঙা প্রতিশ্রুতির পুনর্ব্যবহার মাত্র, যা ভোটাররা জানেন রিপাবলিকানরা কখনো পূরণ করবে না।” রিপাবলিকান প্রচারণার বিজ্ঞাপনগুলো মূলত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ -এর দিকে নজর দিচ্ছে, যার মধ্যে টিপস এবং ওভারটাইমের উপর অস্থায়ী কর কমানোর বিধান রয়েছে। অন্য প্রার্থীরা স্থানীয় বিষয় বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণে মনোযোগী।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ এবং সাবেক আরএনসি কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর ডগ হেই বলেছেন, প্রার্থীরা কেন এই প্রতিশ্রুতি গ্রহণে অনাগ্রহী, তা নিয়ে খুব বেশি রহস্য নেই। তিনি বলেন, “এটি একটি বোকামির ধারণা। এটা পরিশোধ করার কোনো উপায় নেই, আর এটি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী কৌশলের অংশ হলেও দলের প্রার্থীদের মধ্যে এটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আগামী মিডটার্ন নির্বাচনে এই ইস্যুটি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তিনি এই প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছেন।




