মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নতুন নীতির কথা ঘোষণা করতে পারেন, যার আওতায় মেডিকেড কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত কিছু ওষুধের দাম অন্যান্য দেশের তুলনামূলক নিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগে প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে মেডিকেডের জন্য কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিগুলোর বিষয়বস্তু জনসমক্ষে না আসায় প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ যাচাই করা সম্ভব নয়।

প্রশাসনের ঘোষণাটি আসছে এমন এক সময়ে যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রয়ক্ষমতার এই সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করেছেন, যাতে মার্কিন বাজারে কিছু ওষুধের দাম অন্যান্য ধনী দেশের তুলনায় অতিরিক্ত বেশি না থাকে। গত বছর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে 'মোস্ট ফেভারড নেশন' নীতি চালু করেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যে দেশ সবচেয়ে কম দামে ওষুধ বিক্রি করে, সেই দেশের সমান মূল্য পরিশোধে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।

হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তির ফলে আগামী ১০ বছরে ৫২৯ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। মেডিকেড কর্মসূচিতে নথিভুক্ত রোগীরা বর্তমানে প্রেসক্রিপশন পূরণে কয়েক ডলারের নামমাত্র সহ-পেমেন্ট দেন, তবে কম দাম রাজ্যগুলোর বাজেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও চুক্তির স্বচ্ছতার অভাবে এই সাশ্রয়ের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষকরা।

রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র নীতি উপদেষ্টা ক্যাথি হেম্পস্টেড অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, প্রশাসনের উপর সাশ্রয়ের দাবি প্রমাণের জন্য আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চাপ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যের অভাব আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাঁর ভাষ্য, “তিনি বলছেন কংগ্রেসের উচিত তাঁর সব এমএফএন ব্যবস্থাকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু এটি কিছুটা অযৌক্তিক, কারণ কংগ্রেস আসলে কী করবে তা স্পষ্ট নয়। এই চুক্তিগুলোর ভেতরে কী আছে, তা কেউ জানে না।” তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হলে এই দাম কমানোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকবে, এবং প্রশাসন চলে গেলে দাম আবার বেড়ে যেতে পারে।

অনেকে চান কম ওষুধের দামের সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাক। ফার্মাসিউটিক্যাল রিফর্ম অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র ও সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জেডি হেওয়ার্থ এক বিবৃতিতে বলেছেন, শুক্রবারের ঘোষণা “অর্থবহ অগ্রগতি, তবে সেই অগ্রগতি অসম্পূর্ণ” রয়ে গেছে, কারণ সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই এমন লক্ষ লক্ষ মার্কিন নাগরিক কম ওষুধের দাম চান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রোগীদের ওষুধের দাম বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে, যেমন চিকিৎসার প্রতিযোগিতা এবং বিমা কভারেজ। বেশিরভাগ মানুষের কভারেজ কাজের মাধ্যমে, ব্যক্তিগত বিমা বাজার বা মেডিকেড ও মেডিকেয়ারের মতো সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে থাকে, যা তাদের খরচের অনেক অংশ থেকে রক্ষা করে।