বিশ্বফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলো বুয়েন্স আইরেসের স্তাদিও মনুমেনতালে। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামেন মেসি। বেনিন ফুটবল দলের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয় আর্জেন্টিনা, যেখানে অধিনায়ক মেসি নিজে একটি গোল করেন এবং বাকি দুটি গোলেও অবদান রাখেন। মাঠের পারফরম্যান্সে মেসির দাপট থাকলেও, ম্যাচের পরবর্তী পরিস্থিতি বেনিন দলের জন্য অত্যন্ত তিক্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।
বেনিন দলের জার্মান কোচ গের্নট হোয়া অভিযোগ করেছেন যে, পুরো আয়োজনটি শুধুমাত্র মেসিকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছিল এবং তাদের দলের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে। আরএমসি রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। কোচের দাবি অনুযায়ী, বেনিন খেলোয়াড়দের মেসির সাথে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তারা জার্সির জন্য অনুরোধ করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এমনকি ড্রেসিং রুম বা টানেলে প্রবেশ করতে দিলেও তাদের বাধা দেয় নিরাপত্তাकर्मी। কয়েকজন খেলোয়াড় জার্সি বদল করার চেষ্টা করলেও সফল হননি।
কোচ হোয়া আরও জানান, তারা আর্জেন্টিনার প্রতি সৌজন্য হিসেবে বেনিনের জাতীয় পতাকার রঙ—হলুদ, লাল ও সবুজ রঙের এক তোড়া ফুল দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগও তারা পাননি। তবে একমাত্র সান্ত্বনা হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কথা উল্লেখ করেন। হোয়া জানান, তিনি ২০১৮ সালের একটি মেসি জার্সি স্কালোনির কাছে পাঠান এবং স্কালোনি সেটিতে মেসির স্বাক্ষর নিয়ে তা ফেরত দেন।
বিতর্ক কেবল আচরণগত অবহেলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফরাসি সাংবাদিক হোমাঁ মলিনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ম্যাচটি খেলে বেনিনের খেলোয়াড় ও স্টাফরা কোনো পারিশ্রমিক পাননি। ম্যাচটি থেকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করলেও, তার কোনো অংশ বেনিনকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




