আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে লিওনেল মেসির যুগের অবসান। গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর, এবার মাঠের লড়াইয়ে শুরু হচ্ছে মেসি-পরবর্তী অধ্যায়। আগামী নভেম্বরের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে এই নতুন যাত্রা শুরু করবে আলবিসেলেস্তে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সম্প্রতি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিপক্ষের নাম প্রকাশ করেছে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ‘রিও দে লা প্লাতা’ ডার্বি, যেখানে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্ডোবায় দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ হবে কোস্টারিকা। যদিও ভেন্যুগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ক্ল্যারিন’ জানাচ্ছে যে, উরুগুয়ে ম্যাচটি লা বোম্বোনেরার স্টেডিয়ামে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদি তা ঘটে, তবে তিন বছর পর সেই মাঠে ফিরবে স্কালোনির দল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এই মাঠেই উরুগুয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা, যা ছিল বিশ্বকাপ জয়ের পর তাদের প্রথম পরাজয় এবং টানা ১৪ ম্যাচের অপরাজিত থাকার সমাপ্তি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনা দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে যেমন দলের মূল কারিগর মেসি নেই, অন্যদিকে কোচ লিওনেল স্কালোনি দলকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন। ফলে দলের বর্তমান সদস্যদের নতুন দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে। অন্যদিকে, কোস্টারিকা ম্যাচটি মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, যেখানে চলতি মাসেই বলিভিয়ার বিপক্ষে জয়ী হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

মেসির অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বের পরিবর্তনও ঘটছে। নভেম্বরের ম্যাচগুলোতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তবে মেসির আইকনিক ১০ নম্বর জার্সিটি কার ভাগ্যে জুটবে, তা নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ম্যানেজমেন্ট; তারা এই বিষয়ে তাড়াহুড়া করতে নারাজ।

সম্প্রতি বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি ছিল মেসির শেষ ম্যাচ। সেই একই ম্যাচে অবসর নিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। ২০২৭ সালের মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু হওয়ার আগে এই দুটি প্রীতি ম্যাচকে স্কোয়াড যাচাইয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্কালোনি। উল্লেখ্য, ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।