ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি রাহুল দ্রাবিড়ের ছোট ছেলে অন্বয় দ্রাবিড় নিজের ব্যাটিং দক্ষতার মাধ্যমে নজর কাড়ছেন ক্রীড়াঙ্গনে। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ ক্রিকেটার বর্তমানে কর্ণাটক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্বের একটি ম্যাচে তার অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে ক্রিকেট প্রেমীদের।

ম্যাচটিতে গুজরাট অনূর্ধ্ব-১৯ দল প্রথমে ব্যাটিং করে ৩৫৭ রানের এক বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। এই পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কর্ণাটকের শুরুটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। উদ্বোধনী জুটিতে রোহিত রেড্ডি ও নীতিশ আর্য মাত্র ৩০ রান যোগ করতে সক্ষম হন। ষষ্ঠ ওভারে নীতিশ বিদায় নেওয়ার পর রোহিত ও ধ্রুব কৃষ্ণন দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ রান করেন। তবে ১২তম ওভারে রোহিত আউট হয়ে গেলে দলের সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সেই সংকটময় মুহূর্তে হাল ধরেন অধিনায়ক অন্বয় দ্রাবিড়। তিনি এবং ধ্রুব কৃষ্ণন তৃতীয় উইকেটে ২০৪ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। রান সংগ্রহের গতি বজায় রাখার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখার ক্ষেত্রে দারুণ ভারসাম্য দেখান অন্বয়। ৩৮তম ওভারে ধ্রুব কৃষ্ণন আউট হয়ে গেলেও অন্বয়ের ব্যাটিং দাপট অব্যাহত থাকে। চতুর্থ উইকেটে অনিকেত রেড্ডির সঙ্গে আরও ৬১ রান যোগ করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

চূড়ান্তভাবে ১০০ বলে ১৫১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন অন্বয়, যার মধ্যে ছিল ২০টি চার এবং ৩টি ছক্কা। তার এই অনবদ্য লড়াইয়ের ফলে ৪৪তম ওভারে ৫ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে কর্ণাটক। এটি কেবল একটি বড় ইনিংস নয়, বরং চাপের মুখে ধৈর্য এবং দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

উল্লেখ্য, অন্বয়ের এই ফর্ম কেবল এই ম্যাচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগের ম্যাচে দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষেও তিনি মাত্র ৪১ বলে ৮৫ রানের দ্রুতগতির ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়া চলতি বছর ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে চারটি যুব ওয়ানডে ম্যাচে তিনি মোট ১৪৮ রান সংগ্রহ করেছেন।

রাহুল দ্রাবিড়ের নাম যেমন শৃঙ্খলা এবং ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের সাথে মিশে আছে, অন্বয়ও সেই পথেই হাঁটছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে একজন বিখ্যাত ক্রিকেটারের সন্তান হিসেবে নয়, বরং নিজের প্রতিভায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তাকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। একই টুর্নামেন্টে বীরেন্দর শেবাগের ছেলে আর্যবীর শেবাগও ১৭৩ রানের ইনিংস খেলেছেন (১৯টি চার ও ৮টি ছক্কায়), যা প্রমাণ করে যে কিংবদন্তিদের পরবর্তী প্রজন্ম এখন নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে সচেষ্ট।