ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ‘আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি চলছে। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক বাস্তব জীবনে স্বামী-স্ত্রী।
ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের কারণেই তাঁদের মধ্যে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিদ্যালয়ে প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে তিনি নিজেই ওই ভিডিওটি ধারণ করিয়েছেন। তবে বিদ্যালয়ের ভেতরে এমন আচরণ করা অনুচিত ছিল বলেও তিনি মেনে নিয়েছেন। অন্যদিকে, এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় এবং তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, যে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে গত ১৪ বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকছেন এবং এই সংক্রান্ত আইনি লড়াই আদালতে চলছে। ২০১১ সালে তাঁরা দুজনেই একই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগে ঘটে থাকলেও ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী বিরোধের বিষয়টি অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’-এর মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষকদের এই ধরনের অশালীন আচরণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।




