কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের পুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশেষ মানববন্ধনের আয়োজন করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের মূল দাবি ছিল অভিযুক্তদের সঠিক বয়স যাচাই করা, যাতে কেউ বয়সের অজুহাত দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যেতে না পারে।

বাংলা ভাষা-সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি সাইফুল মালেকের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক শামসুজ্জামান মিলকী এবং বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম মাওলাসহ আরও অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা 'অপ্রতিমের রক্ত বৃথা যেতে দেব না' এবং 'বিচার চাই' বলে জোরালো স্লোগান দেন। তারা স্পষ্ট করে জানান যে, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনের মাঝে বাংলা বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোসাব আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, ঘটনার প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো বিচারের জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার অভিযোগ, অভিযুক্তদের কিশোর হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে। তাই যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়া ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শানীন অশ্রু আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অপরাধীরা যদি আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে মুক্তি পায়, তবে ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক শামসুজ্জামান মিলকী তার বক্তব্যে বলেন, অপ্রতিমের বাবা বর্তমানে আদালতের দোরগোড়ায় ঘুরছেন, আর তারা এখানে মানববন্ধন করছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত অপ্রতিম হত্যার বিচার না পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তারা রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক গোলাম মাওলা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান যেন বয়সের দোহাই দিয়ে কাউকে রেহাই না দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন অভিযুক্ত ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।