রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে প্রতিমার গায়ের স্বর্ণালংকার চুরি করার অভিযোগে এক দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন অর্ণব রায় এবং তাঁর স্ত্রী লিপি কর্মকার। মঙ্গলবার বিকেলে মিন্টোর রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন এই অভিযানের বিস্তারিত জানান। তদন্তে জানা গেছে, এই দম্পতি পরিকল্পিতভাবে মন্দিরে গিয়ে প্রতিমার গায়ের সোনা চুরি করতেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ৭ অক্টোবর শাহবাগের রমনা কালীমন্দিরে। ওইদিন সকাল পৌনে নয়টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যবর্তী সময়ে মা কালীর বিগ্রহের জিভে রাখা প্রায় ছয় আনা ওজনের স্বর্ণের পাত চুরি হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা। মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে উত্তরখান থানার দোবাদিয়া এলাকা থেকে অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকার সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মো. মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে রমনা কালীমন্দির থেকে চুরি হওয়া সোনার একটি অংশ (দুই আনা এক রতি ওজনের সোনার পাত) উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির থেকেও স্বর্ণালংকার চুরি করা হয়েছিল, যে ঘটনায় রমনা থানায় মামলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, এই চুরির সঙ্গেও অর্ণব ও লিপির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা চুরি করা অলংকারগুলো জাকারিয়া ইসলাম নামের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পুলিশ ওই ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করেছে এবং সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে।

এছাড়াও, গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের একটি মন্দিরে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলার সোনার চেইন চুরির চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে অর্ণব রায়ের বিরুদ্ধে। তবে চেইন নিয়ে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিত তাঁকে ধরে ফেলেন এবং পরবর্তীতে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাঁকে ছেড়ে দেন।

যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত তিনটি প্রধান ঘটনায় এই দম্পতির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তবে এর বাইরেও তারা একই ধরনের অপরাধ ঘটিয়েছেন কি না এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত একটি চোর চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।