ময়মনসিংহ নগরের কাচারীঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অংশ ভরাট করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাকে কেন্দ্র করে নদী দখলের তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় ওই এলাকায় এক বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, নাগরিক সুবিধার কথা বলে নদীর বুকে মাঠ তৈরির এই প্রক্রিয়ার আড়ালে আসলে নদী দখলের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের উদ্যোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের মতে, নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাবেশে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, খননকাজের নামে তোলা বালু নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হচ্ছে, যার ফলে নদীর প্রশস্ততা সংকুচিত হচ্ছে এবং প্রভাবশালী মহলের জন্য দখলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পাশাপাশি, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অধীনে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশাল খনন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে উৎসমুখ পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার এলাকা খননের কথা থাকলেও সাত বছর পর এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল শুষ্ক মৌসুমে ১০ ফুট গভীরতা ও ৩০০ ফুট প্রশস্ততা নিশ্চিত করা, কিন্তু বাস্তবে পানির প্রবাহ বাড়ার বদলে দিন দিন কমে যাচ্ছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়েও সোচ্চার ছিলেন সমাবেশে আসা বক্তারা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘকাল ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পরও এই দৌরাত্ম্য অব্যাহত রয়েছে বলে তারা জানান। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে ‘ব্রহ্মপুত্রে পানি কই’ এবং ‘নদী নাই, দেশ নাই’র মতো স্লোগানের মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহ মঞ্চের পক্ষ থেকে খনন প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় ও অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীর ওপর নির্মিত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ এবং বক্তব্য রাখেন আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেলসহ আরও বেশ কয়েকজন সংগঠক।

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ জানান, এখানে কোনো স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করা হবে না। কেবল ফুটবল অনুশীলনের জন্য সাময়িক মাঠ তৈরি করা হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে খেলার মাঠ তৈরির বিষয়ে তাকে মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে কেউ কিছু জানাননি, তবে যথাযথ আবেদন করা হলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।