বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনের ষষ্ঠ তলায় একটি কক্ষকে আবাসন হিসেবে ব্যবহার করছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন গাড়িচালক। ওই কক্ষের সামনে ছড়িয়ে থাকা জুতো, ময়লার ঝুড়ি এবং ভেতরে মেলে রাখা কাপড়চোপড় স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সেখানে একটি পরিবার বসবাস করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিউল বড়ুয়া নামের ওই গাড়িচালক তার পরিবার নিয়ে বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। তবে এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান এবং অনুমতির প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অস্পষ্টতা ও অসংগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শিউল বড়ুয়ার স্ত্রী জানান, তারা সেখানে তিন মাস ধরে বসবাস করছেন। তবে শিউল বড়ুয়া দাবি করেন, তিনি মাত্র তিন দিন আগে সেখানে উঠেছেন। তিনি জানান, তিনি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত এবং কোয়ার্টার না পাওয়ায় অসুস্থ শ্বশুরের চিকিৎসার জন্য পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষ আবাসন হিসেবে ব্যবহারের আইনি অনুমতি আছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
শিল্পকলা একাডেমির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, এই অননুমোদিত বসবাসের বিষয়টি প্রশাসনের অনেকেরই জানা। এমনকি গত মার্চ মাসেই এক কর্মকর্তা সেখানে ওই দম্পতিকে দেখতে পান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, মহাপরিচালক বিষয়টি জানতে পেরে কক্ষটি খালি করার নির্দেশ দিলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, একাডেমির কর্মচারী ইউনিয়ন এবং কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যারা অনেক ক্ষেত্রে মহাপরিচালকের চেয়েও বেশি ক্ষমতা প্রদর্শন করেন।
এ বিষয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান একে 'মানবিক সহায়তা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, তারা শিল্প-সাহিত্যের প্রসারে কাজ করেন, কোনো অনৈতিক কাজে লিপ্ত নন। তিনি জানান, ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পাওয়ার কথা রয়েছে শিউল বড়ুয়ার, তাই ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনুমতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুন-অর-রশীদ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি এই বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং কক্ষটি খালি করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, গাড়িচালক সেখানে থাকছেন তা জানলেও পুরো পরিবার নিয়ে থাকার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি আরও বলেন, পুরো ভবনটি এখনো বুঝে পাওয়া বাকি থাকায় সাময়িকভাবে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পূর্ণলাক্ষ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিউল বড়ুয়া কোনো লিখিত আবেদন ছাড়াই মৌখিক অনুমতিতে সেখানে অবস্থান করছেন। কোয়ার্টার পাওয়ার আগ পর্যন্ত মানবিক কারণেই তাঁকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ববর্তী মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, তাঁর সময়ে মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেখানে রাখা হতো, কিন্তু কেউ বসবাস করছেন তা তাঁর জানা ছিল না। জানা থাকলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নিতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শাখা থেকে শিউল বড়ুয়ার পরিচয় নিশ্চিত করা হলেও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




