পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন এবং মহাসড়কের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিকল্প রুট ব্যবহার করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের নতুন চালান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তিনটি বিশেষ লরির মাধ্যমে পদ্মা সেতু হয়ে এই জ্বালানি রূপপুরে পৌঁছায়। প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে বি এম রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গাজীপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে মহাসড়কে যে ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা এড়াতেই পরিবহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এর ফলেই প্রথমবারের মতো প্রচলিত পথের বদলে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হয়।

সাধারণত ইউরেনিয়ামের চালান ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে যমুনা সেতু অতিক্রম করে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুরে নেওয়া হয়ে থাকে। তবে এবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করা লরিগুলো ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর, রাজবাড়ী এবং কুষ্টিয়া হয়ে পাকশীর লালন শাহ সেতু পেরিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এই নতুন চালানের মাধ্যমে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য দুটি অতিরিক্ত এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তিনটিসহ মোট পাঁচটি চালান এখন পর্যন্ত দেশে এসেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি হিসেবে সাতটি কার্গো বিমানে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনা হবে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জন্য আরও দুটি কার্গো বিমানে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি পাঠানো হবে। সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানিগুলো দেশে পৌঁছাবে।