মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্ততার মাঝে প্রকৃতির এক অনন্য উপহার হয়ে দাঁড়িয়েছে সৈয়দ মুজতবা আলী সড়কের পাশে অবস্থিত মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশ। সম্প্রতি এখানে ফুটেছে প্রচুর পরিমাণে উজ্জ্বল হলুদ রঙের চন্দ্রপ্রভা ফুল, যা পুরো এলাকাটিকে এক সোনালি আবরণে ঢেকে দিয়েছে। গাঢ় সবুজ পাতার সাথে হলুদ ফুলের এই বৈপরীত্য দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজের বুকজুড়ে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেছে, মাঠের পূর্ব প্রান্ত থেকে শুরু করে এম সাইফুর রহমান মিলনায়তন পর্যন্ত সারিবদ্ধ গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে আছে। কোথাও ফুলগুলো থোকা থোকা হয়ে ফুটেছে, আবার কোথাও ডালপালা ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সোনালি রঙের আভা। বৃষ্টির পর সতেজ হয়ে ওঠা এই ফুলগুলোর চারপাশে মৌমাছি ও ভ্রমরদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে, যা পুরো পরিবেশে এক প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করেছে।

শহরের ইট-পাথরের ভিড়ে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তবে লক্ষ্য করা গেছে, কিছু মানুষ বাঁশের আঁকশি দিয়ে ডাল টেনে ফুল তুলছেন, যার ফলে অনেক সময় গাছের ডাল ভেঙে যাচ্ছে। কেউ কেউ হাতের নাগালে থাকা ফুলগুলো ছিঁড়ে ব্যাগে ভরছেন। রাতের বৃষ্টির কারণে অনেক ফুল ঝরে পড়ে সড়কের পাশে এবং সবুজ ঘাসের ওপর বিছিয়ে ছিল।

এই সুন্দর বাগানটি গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে কানাডাপ্রবাসী প্রয়াত নুরুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগ। বছর কয়েক আগে তাঁর প্রচেষ্টায় এখানে এই গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। গাছগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনি বাঁশের ঝুপড়ি তৈরি এবং নিয়মিত পানির ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই মহৎ কাজে তাঁর পাশে ছিলেন চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এম এ আহাদ এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও লেখক মো. আবদুল খালিক। পাশাপাশি মৌলভীবাজার পৌরসভা এবং সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই গাছগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে।

চন্দ্রপ্রভা মূলত একটি ঝোপালো উদ্ভিদ, যার ঘণ্টা আকৃতির উজ্জ্বল হলুদ ফুল সহজেই মানুষের নজর কাড়ে। বাংলাদেশে এটি সোনাপাতি, স্বর্ণপাতি, ঘণ্টি ফুল কিংবা গৌরিচৌরি নামেও পরিচিত। যদিও এই উদ্ভিদের আদি নিবাস আমেরিকায়, তবে এর অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে এটি এখন বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার এই চিরসবুজ বা আধা চিরসবুজ গাছগুলোর ডালের আগায় বড় বড় থোকায় ফুল ফোটে, যা প্রজাপতি ও মৌমাছিদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে। শরতের নীল আকাশের নিচে হাওয়ায় দুলতে থাকা এই সোনালি ঢেউ এখন মৌলভীবাজার শহরের এক অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।