মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নগরকেন্দ্রগুলো কি সত্যিই মরতে বসেছে? রিয়েল এস্টেট জগতের পরিচিত মুখ রায়ান সারহ্যান্টের উত্তর একেবারে ভিন্ন। তার মতে, শহরগুলো মরছে না; বরং সম্পদ ছড়িয়ে পড়ছে নতুন গন্তব্যে। নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট ফার্মের প্রধান নির্বাহী এবং 'ওনিং ম্যানহাটন' রিয়েলিটি শোয়ের তারকা সারহ্যান্ট সম্প্রতি ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আপনি ভাবতে পারেন যে মার্কিন শহরের অস্তিত্ব শেষ, মহানগরী মৃতপ্রায়, মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে যা দেখা যাচ্ছে তা হলো সম্পদের বহুগুণ বৃদ্ধি, যা ব্যক্তি এবং রিয়েল এস্টেট সম্পদ—দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক।”

তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি নেট মাইগ্রেশন (অভিবাসনের চেয়ে আগমনের হার বেশি) দেখা যাবে আলাবামার হান্টসভিল, সেন্ট্রাল ওহাইও এবং নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে। সারহ্যান্টের ভাষ্য, এই তিনটি অঞ্চলই এখন বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার স্থাপনের কারণে সেখানে কর্মসংস্থান ও সম্পদ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, “ওহাইওতে গিয়ে চারপাশে তাকালে দক্ষিণ বিচের চেয়ে বেশি দামি গাড়ি দেখতে পাবেন, কিন্তু কেউ সেটি নিয়ে কথা বলে না।”

ফরচুন ম্যাগাজিনের নিজস্ব প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বহু বিলিয়নেয়ার ফ্লোরিডায় পাড়ি জমিয়েছেন—রাজ্যটির শীর্ষ ২০ ধনীর মধ্যে ১৯ জনই এখন মিয়ামিতে বসবাস করেন। ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনের মতো রাজ্যগুলো নতুন সম্পদ কর প্রস্তাব করার মধ্যেই এই প্রবণতা লক্ষণীয়। তবে সারহ্যান্টের যুক্তি হলো, অতি-ধনীরা আর একক স্থানে স্থির থাকছেন না; তারা নিজেদের রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করছেন। অর্থাৎ সম্পদ এখন ছড়িয়ে পড়ছে। ধনী ক্রেতারা দেশজুড়ে একাধিক বাড়ি কিনছেন—শহরের কেন্দ্রে থাকার খরচ এড়িয়ে বড় শহরগুলোর সুবিধা পেতে চাইছেন তারা।

তবে শুধু অতি-ধনীরাই নয়, ক্রয়ক্ষমতার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের একটি বড় অংশও একই ধরনের বাজারের দিকে ঝুঁকছে। সারহ্যান্টের মতে, “মানুষ মানিব্যাগ নিয়ে স্থানান্তরিত হয়।” তিনি নিউ ইয়র্কের মতো অনন্য শহরের ক্ষেত্রেও সতর্ক সংকেত দেখছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর শহরটি প্রায় ১২,০০০ বাসিন্দা হারিয়েছে—যাকে তিনি “অবশ্যই একটি সতর্ক সংকেত” বলেছেন, যদিও তা এখনও সংকট নয়। জীবনযাত্রার খরচ ও করের বোঝা অত্যধিক হলে যে কোনো শহরই মানুষ হারাতে পারে, নিউ ইয়র্ক তার ব্যতিক্রম নয়। সোহো অফিসের কাছে একটি চার বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট সম্প্রতি মাসে ৭৫,০০০ ডলারে ভাড়া হয়েছে—এটি শহরটির “অত্যধিক দামি” হওয়ার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সারহ্যান্ট মনে করেন, ধনী বাসিন্দাদের বের করে দেওয়াও সমাধান নয়। কারণ তারা চাইলে অন্য কোথাও বাড়ি কিনে নেবেন, ফলে শহরটি উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি কোম্পানিগুলোর কর্মী নিয়োগের প্রতিযোগিতার সঙ্গে এর তুলনা করেন: “একটি কোম্পানিতে কর্মীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলে সেখানকার মেধাবীরা অন্য চাকরি খুঁজতে পারে। রাষ্ট্র হলো সেই কোম্পানি, আর আমেরিকান নাগরিকরা কর্মী।”

তথ্য-উপাত্তও সারহ্যান্টের বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে। ক্রেতারা এখন সাশ্রয়ী মূল্য ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, এবং ওহাইও এ ক্ষেত্রে নীরব বিজয়ী হয়ে উঠেছে। স্টোরেজক্যাফের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেখানে বাড়ির দাম উপকূলের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম, এবং জেন জেড ও মিলেনিয়াল প্রজন্ম আন্তঃরাজ্য স্থানান্তরকারীদের প্রায় ৩০ শতাংশ। রিয়েলটি ওয়ান গ্রুপ নেক্সট জেনারেশনের রিয়েলটর ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ ফরচুনকে বলেন, “অনেকের জন্য এটি শুধু সস্তা বাড়ি নয়; বরং উচ্চ খরচে ডুবে না থেকে আগে থেকেই সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ।” ওহাইওতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ছে। ইন্টেল কলম্বাসের বাইরে দুটি চিপ কারখানা নির্মাণ করছে, যার বিনিয়োগ ২৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে—রাজ্যের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগ। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসও ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যটিতে ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। অ্যান্ড্রুজ যোগ করেন, “মিডওয়েস্টে জীবনযাত্রার খরচ, বিশেষ করে মুদি, গ্যাস ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় খাতে, স্থানীয় মজুরির সঙ্গে ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে জেন জেড ক্রেতারা শুধু টিকে থাকেন না, বরং এগিয়ে যেতে পারেন। মিডওয়েস্ট এখন শুধু সাশ্রয়ী নয়; সাফল্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা একটি প্রজন্মের জন্য এটি এখন উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক।”