যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ব্যাপক সাফল্যের ফলে আইনসভার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে আসায় ইউক্রেইনের জন্য নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্কিন সহায়তা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কায় থাকলেও, রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন যে, নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদান করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

তবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাঝেও একটি বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটরা আইন পাস করলেও ট্রাম্পের 'ভিটো' ক্ষমতা এবং কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার কারণে সহায়তা পৌঁছানো অনিশ্চিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সময় থেকে ইউক্রেন সহায়তার কোনো বড় বিল পাস হয়নি, এমনকি অনুমোদিত অর্থছাড়ের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই তহবিল দেওয়ার বিষয়ে টানবাহানা করছে এবং প্রয়োজনে তাকে সংবিধান মানতে বাধ্য করার বিকল্প পথ খুঁজবে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং শান্তিচুক্তির মাধ্যমে প্রাণহানি বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের পরিকল্পনা করছেন। তারা জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি সংক্রান্ত 'ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট' (NDAA) অথবা বাজেট বিলের সাথে ইউক্রেন সহায়তা এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার শর্ত যুক্ত করতে পারেন। এছাড়া ট্রাম্প মনোনীত কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া, তদন্ত শুরু করা এবং ভ্রমণ ব্যয় ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করা হবে। ইতিমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা রাশিয়ায় ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে তদন্ত করা সহজ হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জার্মান টেলিভিশন জেডডিএফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটদের স্পষ্ট সমর্থনের প্রশংসা করেছেন। ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা ডেভিড আরাখামিয়া মনে করেন, এই জয়ের ফলে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হলেও তা পেতে আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর মাঝে ইউক্রেনকে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন শীতকাল মোকাবিলা করতে হবে, তাই আবুধাবিতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় তারা দ্রুত সফল হতে চায়।

তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা প্রাইস ফ্লয়েড অতিরিক্ত আশাবাদী হতে নিষেধ করেছেন। তার মতে, ট্রাম্প এখন তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বা 'লেগ্যাসি' রক্ষার দিকে বেশি মনোযোগী এবং কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত তাকে খুব একটা প্রভাবিত করবে না। সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা ডেমোক্র্যাট এবং এমনকি কিছু রিপাবলিকানকেও ক্ষুব্ধ করেছে।