যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছেন চিকিৎসক আবদুল আল-সাইয়েদ। একটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে তিনি সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের দীর্ঘ ২৩৭ বছরের ইতিহাসে তিনি প্রথম মুসলিম হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে আসীন হলেন। মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয়ের পর মূল নির্বাচনেও তিনি সফল হন।

এই অভাবনীয় জয়ে উচ্ছ্বসিত আল-সাইয়েদের ভারতের কর্ণাটকে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। তাঁর স্ত্রী সারা জুকাকু একজন মনোরোগ চিকিৎসক, যার পরিবারের শিকড় ভারতের কর্ণাটকের ভাটকল শহরে। এই কারণে আল-সাইয়েদকে পরিবারের সবাই ভালোবেসে ‘কর্ণাটকের জামাই’ বলে সম্বোধন করেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ে সারা ও আল-সাইয়েদের পরিচয় হয় এবং ২০০৬ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। সারার বাবা জুকাকু তাইয়েব এবং দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন (সাবেক মহীশূর রাজ্যের অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী) পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য।

নির্বাচনী প্রচারের সময় আল-সাইয়েদ নিজের ভারতীয় পারিবারিক পরিচয় নিয়ে বেশ রসিকতা করেছেন। একটি পডকাস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ ভারতীয় নারীর সাথে দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের কারণে তিনি এখন আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সম্মানসূচক একজন ভারতীয়। আমি দেশি নারীদের মাঝে ঘেরা, আমার স্ত্রী ও দুই মেয়েই দেশি।’ এছাড়া মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই নেতা তাঁর বাবার বেড়ে ওঠা আলেকজান্দ্রিয়া শহরের স্মৃতি এবং মিসরীয় খাবারের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথাও প্রায়ই ব্যক্ত করেন।

জনস্বাস্থ্য খাতের সাবেক কর্মকর্তা আল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা এবং নির্বাচনে বহিরাগত অর্থের প্রভাব বন্ধ করা। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি ও মূল নির্বাচন—উভয় ধাপেই রিপাবলিকান ও ইসরায়েলি লবিদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁর প্রচারশিবিরকে। তবে এসব প্রতিকূলতা এবং কোটি কোটি ডলারের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি জয়ী হন। তাঁর এই প্রচারে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন ও সক্রিয় সহযোগিতা ছিল।

সারার চাচা জুকাকু আবদুল মজিদ এই জয়কে একটি ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২.৫ শতাংশ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও এমন এক জয় পাওয়া কল্পনাাতীত ছিল। সারার কাজিন বিবি হুসনা জানান, ভোট গণনার সময় পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন, তবে চূড়ান্ত ফল আসায় এখন স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আল-সাইয়েদের এই বিজয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে তাঁর কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থন যে বাড়ছে, এই জয় তারই প্রমাণ।