যুক্তরাষ্ট্রে আইনি স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাসরত এক আফগান নারীকে প্রথমবারের মতো নতুন গঠিত 'এলিয়েন টেরোরিস্ট' আদালতের নির্দেশে দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই নারী কখনোই কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন না। তবে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগাযোগ থাকায় তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, অপরাধ প্রমাণ ছাড়াই কাউকে নির্বাসিত করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। বিশেষ করে যেহেতু তিনি বৈধ বাসিন্দা ছিলেন, তাই এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন আদালত ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও অনেক অভিবাসীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের পরিবারের কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারি পক্ষ বলছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে, আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া ওই নারীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু নতুন আইন অনুযায়ী, এই আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে ধোঁয়াশা রয়েছে।

মার্কিন অভিবাসন নীতিতে এটি একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতীতে সন্ত্রাসী যোগসূত্রের কারণে নির্বাসনের ঘটনা ঘটলেও, আলাদা আদালত গঠন করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঘটনা এটাই প্রথম। ফলে এই রায়ের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও মামলা পরিচালিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।