মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে বিদ্যমান কোন্দল আজ প্রকাশ্য সংঘর্ষের রূপ নেয়। একদিকে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু সাদাত মো. শাহিনের অনুসারীদের থানা ঘেরাও কর্মসূচি, অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বিল্লাল খানের নেতৃত্বে মানববন্ধন—এই দুই সমান্তরাল আয়োজনকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় একটি বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। পরবর্তীতে থানা চত্বরের সীমানা প্রাচীরের কাছে পেট্রলবোমার মতো দেখতে চারটি কাচের বোতল উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুরের ধূলশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বিল্লাল খান পদ্মা নদীর লেছড়াগঞ্জ এলাকায় বালুমহালের ইজারা নিয়েছেন। অপরদিকে, আরিচা নদীবন্দর থেকে পাবনার পাকশী ও সিরাজগঞ্জ হয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ চ্যানেল হয়ে চলাচলকারী মালবাহী নৌযান থেকে শুল্ক আদায়ের ইজারা পেয়েছেন গ্রুপ অন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন। তাঁর পক্ষে ওই শুল্ক আদায় করেন যুবদল নেতা শাহিন। ব্যবসায়িক এই দুই ইজারা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন হামলা, মারধর এবং অর্থ লুটের অভিযোগ তুলে দুই পক্ষই আলাদাভাবে থানায় মামলা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে নিজ নিজ কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা। বেলা ১১টার দিকে বিল্লাল খানের অনুসারীরা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হন। অন্যদিকে, মো. শাহিনের সমর্থকরা থানার কাছাকাছি অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে শাহিনের লোকজন একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানার সামনে এসে আন্ধারমানিক সড়কের দুই পাশে মানববন্ধন শুরু করেন। এই সময় বিল্লাল খানের অনুসারীরাও মিছিল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে শাহিনের সমর্থকরা সরে যেতে থাকেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে একটি বিস্ফোরণের শব্দ হয়।

শব্দটি শোনার পরই থানার সামনে মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর বিল্লাল খানের লোকজন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে ফিরে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। দুই পক্ষ চলে যাওয়ার পর থানার সীমানা প্রাচীরের কাছে মাটিতে পড়ে থাকা চারটি ছোট কাচের বোতল দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। বোতলগুলোর মুখে কাপড়ের সলতা পেঁচানো ছিল। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বোতলগুলো পেট্রলবোমা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হলেও ভেতরে পেট্রল বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ছিল না।

এ ব্যাপারে যুবদল নেতা মো. শাহিনের ভাষ্য, নৌ চ্যানেলের ইজারার টাকা উত্তোলনের সময় বিল্লাল খানের লোকজন বাধা দেয় এবং চাঁদা দাবি করে। সেই চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় গত শুক্রবার দুপুরে বিল্লালের অনুসারীরা ইজারার টাকা উত্তোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে টাকাপয়সা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শাহিন আরও অভিযোগ করেন, পরে বিল্লাল খান তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

বিপরীতে বিল্লাল খান দাবি করেন, যুবদল নেতা শাহিন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। চাঁদা না পেয়ে তাঁর বালুমহালে গিয়ে কর্মচারীদের মারধর করা হয়েছে এবং সেখান থেকে প্রায় সাত লাখ আট হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফজাল হোসেন জানান, দুই পক্ষই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের শব্দটি ককটেলের নয়, বরং পটকা ফোটানো হয়েছে। পেট্রলবোমা সদৃশ চারটি কাচের বোতল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।