ইংল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে লর্ডসের মেঘলা আকাশ ও পেস বোলিং সহায়ক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে পাকিস্তান। ম্যাচের শুরুতে টস জিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান দল। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হয় যখন অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস তাঁর বোলিংয়ে তাণ্ডব চালান। মাত্র ১৬ বলের ব্যবধানে চার রানে তিনটি উইকেট শিকার করে তিনি ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান, যার মধ্যে অন্যতম ছিল অধিনায়ক জো রুটের (৪) গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। দ্রুতie ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিক দল।

তবে এই চরম বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে লড়াই করে ইংল্যান্ড। জেমি স্মিথ ও জর্ডান কক্সের জোরালো ব্যাটিংয়ে তারা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায়। স্মিথ ৬১ এবং কক্স ৫৫ রানের দুটি ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি করেন, যার ফলে ইংল্যান্ড বড় ধরনের পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়। বৃহস্পতিবার আলোর স্বল্পতার কারণে প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে স্বাগতিকেরা ৫৬ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৮ রান সংগ্রহ করে। দিনের শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসন ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যাঁর লর্ডস মাঠে সেঞ্চুরির অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণটি বেশ কার্যকর ছিল। মোহাম্মদ আব্বাস মোট ৫৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন, আর তাঁকে দারুণ সহায়তা করেন মোহাম্মদ আলী, যিনি ৬৭ রানে ৩টি উইকেট পকেটে পুরেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর কক্স ও স্মিথের জুটি ৬৭ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ বাড়ায়। তবে দিনের শেষ ভাগে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে জেফরা আর্চার শেষ পর্যন্ত আব্বাসের শিকার হন।

এই ম্যাচে একাদশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান। হেডিংলি টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়া পাকিস্তান দলে ফিরেছেন নিয়মিত অধিনায়ক বাবর আজম। আঙুলের চোট কাটিয়ে তিনি পুনরায় দলে জায়গা করে নিয়েছেন, যার ফলে অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক সালমান আলী আগা একাদশে জায়গা পাননি। লর্ডসের সবুজ উইকেটে আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শুরুতে হ্যারি ব্রুকসহ (১৫) গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।