বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া ২০ টন মাছ শেষ পর্যন্ত নিলামে তোলা হচ্ছে। ফ্লাইট জটিলতার কারণে প্রায় চার মাস ধরে মাছগুলো খুলনার বাটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটের ট্রাস্ট সি–ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে সংরক্ষিত ছিল। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এই মাছ নিলামের ঘোষণা দিয়েছে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্যপণ্য উপহার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে উচ্চ মানসম্পন্ন ২০ টন মাছ কেনে টিসিবি, যার মধ্যে রয়েছে ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন বাগদা চিংড়ি ও ৫ টন রূপচাঁদা। গত এপ্রিল মাসে কুয়েত সরকারের নিয়মিত ফ্লাইটে পণ্যগুলো পাঠানোর কথা ছিল। তবে ওই সময়ে কুয়েত কর্তৃপক্ষ উপহারের চাল গ্রহণ করলেও মাছ নিতে আগ্রহ দেখায়নি।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মাছ পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বহনে অনীহা প্রকাশ করেছে কুয়েত সরকার। এ অবস্থায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ১৮ আগস্ট মাছ নিলামে তোলার জন্য দরপত্র আহ্বান করে টিসিবি। নিলামের আগ্রহীরা আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার খুলনার প্ল্যান্টে গিয়ে মাছ সরেজমিনে দেখতে পারবেন। আগামী মঙ্গলবার নিলাম অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিলামে অংশগ্রহণের জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করেছে টিসিবি। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হবে। গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ও রূপচাঁদার জন্য আলাদা আলাদা দরপ্রস্তাব এবং জামানত জমা দিতে হবে। এছাড়া নিলামে অংশ নিতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের কপি জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতা বিজয়ী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং বিজয়ীকে দরের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।

টিসিবির শর্ত অনুযায়ী, নিলামে অংশগ্রহণকারীদের কমপক্ষে ৫০০ কেজি মাছ কিনতে হবে। দরপ্রস্তাবে মাছের ধরন, পরিমাণ, প্রতি কেজি দর, মোবাইল নম্বর, ই–মেইল ঠিকানা এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। ঢাকার প্রধান কার্যালয়, চট্টগ্রাম ও খুলনা কার্যালয়ে নিলামের কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে।

টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক শাহাদত হোসেন জানান, ফ্লাইট জটিলতার কারণে উপহারের মাছ কুয়েতে পাঠানো সম্ভব হয়নি, তাই এটি নিলামে তোলা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঢাকায় আগ্রহীদের মাছ দেখার সুবিধার জন্য খুলনা থেকে কিছু মাছ ঢাকায় আনা হয়েছে।

নিলাম–পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থ পরিশোধের পর ৩ দিনের মধ্যে নিজ খরচে কোল্ডস্টোরেজ থেকে মাছ সরবরাহ নিতে হবে। অন্যথায় নিলামটি বাতিল হয়ে যাবে। তবে সরবরাহ নিতে বিলম্ব হলে নির্ধারিত দিনের পর প্রতিদিন স্টোরেজ চার্জ দিতে হবে বলেও নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।