বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েত সরকারকে উপহার পাঠানোর উদ্দেশ্যে গত এপ্রিল মাসে ২০ টন রুপচাঁদা ও চিংড়ি মাছ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে পচনশীল পণ্য বহনে কুয়েত সরকারের অনীহা এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেই চালানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি। এই মাছগুলো বিক্রির জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ইতিমধ্যে দুইবার নিলাম আহ্বান করলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে তৃতীয়বারের মতো পুনরায় নিলামের ডাক দিয়েছে সংস্থাটি।

উপহারের জন্য কেনা মোট মাছের মধ্যে ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন রুপচাঁদা এবং ৫ টন বাগদা চিংড়ি ছিল। প্রথম নিলামে খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান ৫ টন বাগদা চিংড়ি কিনে নিলেও বাকি ১৫ টন মাছ রয়ে গেছে। এর মধ্যে ১০ টন গলদা চিংড়ি ও ৫ টন রুপচাঁদা এখনও অবিক্রিত। চলতি মাসের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয়বার নিলামের প্রক্রিয়া চললেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ২৩ সেপ্টেম্বর তৃতীয়বার নিলামের ঘোষণা দেয় টিসিবি, যেখানে দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর।

আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত খুলনার বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটে অবস্থিত জিটিএস সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে মাছ দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। মাছ দেখার পর দর প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দরপত্রগুলো টিসিবির ঢাকা প্রধান কার্যালয় এবং খুলনা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ে জমা দেওয়া যাবে।

নিলামের শর্ত অনুযায়ী, ন্যূনতম ৫০০ কেজি মাছ কেনার জন্য দর প্রস্তাব করতে হবে। গলদা চিংড়ি ও রুপচাঁদার জন্য আলাদাভাবে দর প্রস্তাব এবং জামানত প্রদান করতে হবে। দরপত্রের সাথে টিসিবির অনুকূলে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। প্রস্তাবিত মাছের পরিমাণ ৫০০ কেজির বেশি হলে আনুপাতিক হারে জামানতের পরিমাণ বাড়বে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিজ প্যাডে মাছের ধরন, পরিমাণ, প্রতি কেজির দর, ঠিকানা, ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

সর্বোচ্চ দরদাতাকে চূড়ান্ত ক্রেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। বিজয়ী ক্রেতাকে উদ্ধৃত দরের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এছাড়া, নির্বাচিত হওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ এবং পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নিজস্ব খরচে মাছ সংগ্রহ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে মাছ সংগ্রহ না করলে নিলাম বাতিল হতে পারে এবং সংরক্ষণাগারের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে। অর্থ পরিশোধ করে মাছ নিতে দেরি করলে বা ব্যর্থ হলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় জামানত ছাড়া কোনো দর প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী নিলামগুলোতে অংশগ্রহণকারী থাকলেও প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া যায়নি, তাই মাছ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিলাম আহ্বানের সংখ্যার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই; প্রয়োজনে যতবার খুশি নিলাম ডাকা যেতে পারে।