কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটির দৃশ্য ভিডিও করার অপরাধে এক সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলা টিভির উপজেলা প্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আহসান উল্লাস (৪৪) এই হামলার শিকার হন। শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় পৌর এলাকার সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে। স্থানীয়দের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার শনিবার ওই স্থানে তদন্ত করতে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আফজাল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন এবং পুত্র শোভন হোসেন। তদন্ত চলাকালীন ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে তারা ইউএনও ফারজানা আখতারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তে ঘটনাটি ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন এবং অন্যান্যরা সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা রড, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে গুরুতর আহত করে এবং তার ভিডিও ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, এই পুরো হামলাটি পরিচালনা করেন এমপি সদস্যের ভাই আনোয়ার এবং তার দেহরক্ষী রুহুল।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশি অভিযানে ইতিমধ্যেই মামলার তিন নম্বর আসামি মারুফ হোসেন (৩৫) এবং আমিরুল ইসলাম (৫৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও লোকবল কম থাকায় হামলা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

ইউএনও ফারজানা আখতার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করে। তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে এসে অনিয়ম শনাক্ত করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার কথা জানতে পারেন। অন্যদিকে, সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের স্ত্রী সাজেদা খাতুন বিপরীত দাবি করে বলেন, সাংবাদিক উল্লাস দীর্ঘদিন ধরে ওই নির্মাণ সাইটে এসে গালিগালাজ করে কাজ বাধাগ্রস্ত করছিলেন, যার ফলে আজকের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের ভাই ও ছেলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, এই ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত হয়ে ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু এবং সাধারণ সম্পাদক শামিমুল ইসলাম অপুসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।