গত মঙ্গলবার সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন নতুন ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) চালু হয়। এরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করে সংস্থাটি। সপ্তাহের বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ১৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
আটকদের মধ্যে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত, বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র বহন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ডাকাতি, প্রতারণা, জাল টাকার লেনদেন, জুয়া, চোরাচালান ও নাশকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
অভিযানকালে এসআরবির হাতে উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, আধা কেজির বেশি হেরোইন, ২৩১ বোতল ফেনসিডিল, ২০০ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ইয়াবা বড়ি এবং দেশি-বিদেশি ২৯ লিটার মদ। এসব তথ্য সংস্থার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন এই ইউনিট গঠনের পর সংশ্লিষ্ট জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, তহবিল, নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাব বই, রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। নতুন আইন অনুযায়ী এসব সম্পদ ও দায়িত্ব তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এসআরবির এই প্রথম বড় ধরনের অভিযানকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সংস্থাটি আগামী দিনেও অপরাধ দমনে এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।




