সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগকারী তার চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রের জামিন পুনরায় বাতিল করা হয়েছে। রোববার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সাদেকীন হাবিব বাপ্পীর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রঞ্জন চন্দ্রের আইনজীবী চুরির ঘটনার কথা জানালেও সেটি যে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ছিল, তা স্পষ্টভাবে আদালতে উল্লেখ করেননি। পরবর্তীতে বিষয়টি বিচারকের নজরে এলে প্রসিকিউশন পক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন জানায়, যা আদালত মঞ্জুর করেন। তবে রঞ্জনের আইনজীবী পরিমল চন্দ্র বর্মণ মনে করেন, যেহেতু এটি চুরির মামলা এবং মূল নথি বিচারকের সামনেই ছিল, তাই এই সিদ্ধান্তটি প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মামলার তিন আসামির মধ্যে দুইজন ইতিপূর্বে জামিন পেলেও রঞ্জন এখনো কারামুক্ত হতে পারেননি।

ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৫ মে কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর পর। ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা লক্ষ্য করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনে কোনো সংযোগ নেই। দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মীরা কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পুনরায় সংযোগ স্থাপন করেন। উল্লেখ্য, এই বিশেষ লাল টেলিফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিটিসিএল কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে জানানো হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবনের মধ্যবর্তী কপার তারটি দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে। এই তারের মাধ্যমেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগগুলো সচল ছিল।

পুলিশি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ জুন সচিবালয় এলাকা থেকে আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে রেজাকুলসহ দুইজন আসামি জামিনে থাকলেও রঞ্জন চন্দ্র পুনরায় কারাগারে ফিরে গেছেন।