কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা এলাকায় এক নাশকতা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান হাফিজকে (৩৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর তাঁকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে আট হয়েছেন জামায়াত-বিএনপির ৮ জন নেতাকর্মী। শনিবার মধ্যরাতে সংঘটিত এই ঘটনায় পুলিশ জানায়, ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার পর রাত ২টার দিকে ওই এলাকার জামায়াত ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা আইনগত প্রক্রিয়ার কথা শুনতে রাজি হননি এবং পুলিশের ওপর ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে পুলিশ ওই ৮ জনকে আটক করে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন চিথলিয়া গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রমাণিক (৫০), ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি কর্মী শহীদুল ইসলাম (৫৩)। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামি ছেড়ে দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং এই সিদ্ধান্ত কেবল আদালতের এখতিয়ারে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তীতে মুচলেকার বিনিময়ে আটক নেতাকর্মীদের তাঁদের দলীয় নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। মিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিত খন্দকার টিপু সুলতান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দলের কোনো দায়িত্বশীল নেতা এই ধরনের তদবির বাণিজ্যে জড়িত নন। যদি কেউ দলের নাম ব্যবহার করে পুলিশের সঙ্গে লেনদেনের চেষ্টা করে থাকেন, তবে তার দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। অন্যদিকে, মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করীম দাবি করেন, গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর মূলত ২০২৩ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলীয় সদস্যকে উদ্ধারের চেষ্টা করা স্বাভাবিক বিষয়, এখানে কোনো তদবির বাণিজ্য নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে নাশকতা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, কিছু দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁদের পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশি প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামি ধরা বা ছাড়ানোর ‘তদবির বাণিজ্য’ পরিচালনা করেন। মিরপুর থানা এলাকায় এই ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ আগে পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ, চলতি বছরের ১০ মে মাদক মামলার এক আসামিকে ছাড়াতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।