দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির জয়চন্ডী ইউনিয়ন কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আলমাছ মিয়াকে বহিষ্কার করেছে দলটি। পাশাপাশি, উপজেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদেও তিনি দায়িত্বরত ছিলেন। শনিবার জয়চন্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোহিতুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, কুলাউড়া পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে অস্থায়ী অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এই সমস্যা নিরসনে ১৩ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শহরের ছয়টি নির্দিষ্ট স্থানে অটোরিকশা দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৬ আগস্টের মধ্যে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাসের নেতৃত্বে শহরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিয়ম ভঙ্গের দায়ে একজন চালককে সাত দিনের কারাদণ্ড ও অপর চারজনকে মোট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ওই দিনই এই ঘটনার প্রতিবাদে আলমাছ মিয়ার নেতৃত্বে চালকেরা সড়কে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেন। খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সম্প্রতি অটোরিকশা চুরির অভিযোগে দুই যুবককে আটকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আলমাছ মিয়া ও আরেক ব্যক্তি দুই যুবককে বেল্ট দিয়ে পেটাচ্ছেন এবং তাদের কাছ থেকে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছেন।
জয়চন্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান জানান, রাস্তা অবরোধ করে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং যুবকদের ওপর নির্যাতনের কারণে মূলত আলমাছ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, এই ঘটনায় এখনও কেউ মামলা করেননি, তবে তদন্ত চলছে এবং নির্যাতনের শিকারদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত আলমাছ মিয়ার বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন।



