রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মুখভাগে রোববার সকালের দিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত বক্তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান অস্বচ্ছতা, অদক্ষতা, অন্যায্য মুনাফা এবং অযৌক্তিক ব্যয় বন্ধ করে ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিতের জোর দাবি জানান। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির প্রাক্কালে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

ক্যাবের উত্থাপিত দশ দফা দাবির মধ্যে প্রধানত রয়েছে—বিইআরসি আইনের কাঠামোগত সংস্কার সাধন; সব ধরনের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের জন্য বেঞ্চমার্ক মূল্যহার গণশুনানির ভিত্তিতে নির্ধারণ; জ্বালানি অপরাধের ক্ষেত্রে ভোক্তাপক্ষের মামলা করার আইনি অধিকার প্রদান; ভোক্তাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্যহারে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষমতা নিশ্চিতকরণ; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারীকরণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধকরণ; সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবাকে মুনাফামুক্ত রাখা; লুণ্ঠনমুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা; অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় ও অপচয় রোধ করে ভর্তুকি ও মূল্যহার কমানো; এবং জ্বালানি অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, কমিশন বারবার জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে সরকার ও কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।

বাংলাদেশ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, বিইআরসি বারবার জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে সরকার ও কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, বিইআরসির অপসারণ এখন একটি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তা ও জনগণের কথা বিবেচনা না করে মুনাফাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গ্যাস ও বিভিন্ন উৎসের বিদ্যুৎ নিয়ে সরকার ও কোম্পানিগুলো যেভাবে জনগণের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা হলে জনগণের কোনো উপকার হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেন, বিইআরসিকে জনবান্ধব করার দাবিগুলো বারবার জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো কেন মুনাফাখোরদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই অবস্থা চলতে থাকলে জনগণ আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ক্যাব যুব সংসদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র রোদ্দুর ধর তার বক্তব্যে ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন নামে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, বিদ্যুতের দাম কমানোর বিষয়ে বিইআরসি কার্যকর গণশুনানি আয়োজন করে না। তিনি বিইআরসি আইনের কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে কমিশনের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও ট্যারিফ নির্ধারণে ভোক্তা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, উল্লিখিত দাবিগুলোর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে লুটপাটমুক্ত করা সম্ভব।