খুলনা নগরীর ইসলাম নগর রোডে একটি চারতলা ছাত্রাবাসে ভাত চুরি করে খাওয়ার অছিলায় আজমুল হোসেন নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ২১ বছর বয়সী আজমুল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় শলুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত এই আবাসিক হলের ছাদে তাকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ওই ছাত্রাবাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। আজমুল সেখানে চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মেসের ম্যানেজার মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলার অভিযোগে মেহেদী, মেসের অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং কিছু বহিরাগত ব্যক্তি আজমুলকে ছাদে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে বাইরে এসে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে মেসের ছাত্ররা দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, নিহতের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার দুই পা ভেঙে গিয়েছিল।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, আজমুল গত ১০ সেপ্টেম্বর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিকেলে খুলনায় পৌঁছান তিনি। রাত ৯টায় বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয় আজমুলের। তবে মধ্যরাতের পর আজমুলের ফোন থেকে এক যুবক কল করে জানায়, ছেলে ঝামেলা করেছে এবং তাকে বাঁচাতে হলে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে। কৃষক বাবা টাকা দিতে না পারলেও দ্রুত চলে আসার অনুরোধ পান। সকালে পৌঁছে তিনি ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
মেসের পরিচারিকা ফাতেমা জানান, এর আগে আজমুলের বিরুদ্ধে ল্যাপটপ ও টাকা চুরির অভিযোগ ছিল। শুক্রবারের ঘটনার সময় তিনি মারধর করতে নিষেধ করলেও কেউ শোনেননি। অন্যদিকে, নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার জানান, আজমুল সম্প্রতি ভর্তি হয়েছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানে না। তবে নিহতের পরিবারের আইনি ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির এবং হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা না করলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটলেও পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।




