গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে একটি পুরনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ফলে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত মনে করেন, যথাযথ জ্ঞানের অভাবই এই মৃত্যুর কারণ। শনিবার নগরীর আগ্রাবাদে অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মশালায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। অধ্যাপক আরাফাত জানান, ব্যালাস্ট ট্যাংকের জমে থাকা পানিতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরির ঝুঁকিটি আগে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যদি কাজ চলাকালীন গ্যাস শনাক্তকরণ ও পর্যবেক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা থাকত, তবে এই দুর্ঘটনা অনায়াসেই ঠেকানো সম্ভব হতো।
শিল্প মন্ত্রণালয় এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত 'জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প'-এর অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, সরকার জাহাজভাঙা শিল্পে মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর, কারণ মানবজীবন অপূরণীয়। তিনি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও উচিত নিচের স্তরের শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা।
এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। এছাড়া জাইকার বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি আকিরা ওকামোতো, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এন্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন এবং চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুনাইত কাওসার তাদের বক্তব্য প্রদান করেন। সামগ্রিকভাবে, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও সতর্ক নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা এই কর্মশালায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।




