নিজেকে এতিম বলে পরিচয় দিয়ে একটি খাবার হোটেলে কাজ শুরু করার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় হোটেলমালিকের ১৫ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নিঃসন্তান মামা-মামির কাছে শিশুটিকে হস্তান্তরের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ পাওয়ার লোভে কিশোরটি এই পরিকল্পনা করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির মা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিয়ে, তাকে আদর করার কথা বলে কৌশলে শিশুটিকে বাইরে নিয়ে যায় ওই কিশোর। হোটেলের পাশেই ওই পরিবারের বসবাস ছিল।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার একটি হোটেলে ভুয়া পরিচয় দিয়ে কিশোরটি চাকরি পেয়েছিল। পরবর্তীতে সে তার মামা-মামিকে মালিকের কন্যা শিশুর কথা জানালে তারা শিশুটিকে এনে দেওয়ার বিনিময়ে তাকে বড় অঙ্কের টাকার লোভ দেখান। সেই প্রলোভনে পড়ে গত বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে সে শিশুটিকে অপহরণ করে এবং তার মামা-মামির হাতে তুলে দেয়।

দীর্ঘক্ষণ শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে এবং একই সময়ে হোটেল কর্মচারীকে নিখোঁজ দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তারা দ্রুত বিষয়টি স্পেশাল র‍্যাপিড ব্যাটালিয়নকে (এসআরবি) অবহিত করেন। এরপর এসআরবি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে হেফাজতে নেয় এবং তার জবানবন্দির ভিত্তিতে তার মামা-মামিকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, তারা শিশুটিকে নিয়ে সাতকানিয়ায় গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিল।

এই ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কিশোরটিকে টঙ্গীর শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, দয়ার বশেই এতিম পরিচয়ে কিশোরটিকে চাকরি দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু এখন মনে করছেন পরিকল্পিতভাবেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, গৃহকর্মী বা দোকানের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই করা এবং শিশুদের সবসময় নজরদারিতে রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কেউ আদর করার কথা বলে তাদের সরিয়ে নিতে না পারে।