খিলগাঁও থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মো. আবদুল্লাহ (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানি খালে ভেসে ওঠা এক ব্যক্তির লাশের ঘটনায় তাঁকে হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, নিহতের নাম মো. জজ মিয়া (৪৪)। তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায়। তিনি রাজধানীর খিলগাঁওয়ে থাকতেন।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে জিরানি খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে আঙুলের ছাপের ভিত্তিতে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তদন্ত শুরু হলে হত্যার বিষয়টি ধরা পড়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আবদুল্লাহ জানান, জজ মিয়া তাঁর এক সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গত মঙ্গলবার রাতে জজ মিয়া খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মেরুল বাড্ডার মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আবদুল্লাহসহ কয়েকজন আগে থেকেই ছিলেন। তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জজ মিয়াকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে লাশ জিরানি খালে ফেলে দেন। প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের কাজ চলছে বলে জানান হারুন অর রশিদ।
জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন। হত্যায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, আবদুল্লাহর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জজ মিয়ার মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "প্রাথমিকভাবে হত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত বলা যাবে না।"
এদিকে, নিহত জজ মিয়ার পরিবার জানায়, তিনি খিলগাঁওয়ে একটি গাড়ির গ্যারেজে কাজ করতেন। ঘটনার দিন রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরিবারের দাবি, জজ মিয়ার সঙ্গে কাদের শত্রুতা ছিল, তা তারা জানেন না। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। কারণ, আবদুল্লাহসহ অন্যরা নির্দিষ্ট সময়ে গ্যারেজে জড়ো হয়েছিলেন।
খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দারা জানান, জিরানি খালে প্রায়ই ময়লা আবর্জনা ভাসতে দেখা যায়। তবে মঙ্গলবার রাতে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা তারা লক্ষ্য করেননি। পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।




